আচ্ছা, ঠাণ্ডা লেগে জ্বর-সর্দি হলে, কিংবা ধরুন ইনফ্লুনয়েঞ্জা হলে আপনি নিশ্চয়ই অফিসের সহকর্মী কিংবা বাড়ির বা বাইরের লোকজনের থেকে একটু দূরত্ব রেখে চলেন? আমরা সবাই-ই এটা করি। কেন করি? যাতে আমার থেকে অন্যদেরও এইভাবে অসুখ না করে। তবে মানুষই যে শুধু এরকম করে তা কিন্তু একেবারেই নয। সাম্প্রতিক এক গবেষণায দেখা যাচ্ছে ঠিক একই জিনিস পিঁপড়েরাও করে। যখনই তাদের এলাকার কোনো সদস্য পিঁপড়ে অসুস্থ হয, তাকে তখন আলাদা রাখা হয। যাতে পুরো এলাকায রোগটা ছড়িযে না পড়ে। এইভাবে তারা রানি পিঁপড়ে, কর্মী পিঁপড়ে ও বাচ্চা পিঁপড়েদের রোগে আক্রান্ত হওযার হাত থেকে রক্ষা করে।

পিপঁড়েরা যেখানে থাকে ঝাঁক বেঁধে থাকে। সংখ্যায প্রচুর। এইভাবে প্রচুর সংখ্যায একসঙ্গে থাকার ফলে এবং নিজেদের মধ্যে ঘন ঘন মেলামেশার ফলে দ্রুত রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। নিজেদের এলাকাকে রোগের হাত থেকে বাঁচাতে পিঁপড়েরা তাই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। আর সেটা তারা করেছে নিজেদের সমাজে আলাদা আলাদা গোষ্ঠী তৈরির মাধ্যমে। একটি কলোনির পিঁপড়ে কিন্তু ঘন ঘন আরেক কলোনির পিঁপড়েদের সঙ্গে মেলামেশা করে না। এছাড়াও প্রতিটি পিঁপড়ে গোষ্ঠীর মধ্যে বয়স এবং কাজের ভিত্তিতে বিভিন্ন উপ-গোষ্ঠী থাকে। যেমন অল্প বয়সী কর্মী পিঁপড়ে, যাদের নার্স বলা যায়, তারা বাচ্চা পিঁপড়েদের দেখাশোনা করে। অন্য দিকে, একটু বযস্ক কর্মীরা বাসার বাইরে যায খাবারের সন্ধানে। আর এদেরই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সবচেযে বেশি সম্ভাবনা থাকে।

অস্ট্রিযার ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সিলভিয়া ক্রিমার এবং সুইটজারল্যান্ডের লসান বিশ্ববিদ্যালযে লরেন্ট কেলার জানান, যখনই খাদ্যসন্ধানী পিঁপড়েদের মধ্যে রোগ দেখা দেয, তখন পিঁপড়েদের উপ-গোষ্ঠীগুলো প্রচণ্ড তত্পর হযে যায। খুব তাড়াতাড়ি তারা নিজেদের আচরণ পালটে ফেলে। পাশাপাশি এটাও ঠিক করে নেয, কাদের সঙ্গে মিশবে, কীভাবে মিশবে। শুধু যাদের রোগ হয়েছে তাদের মধ্যেই নয়, এই সতর্কতা গোটা কলোনিতে ছাড়িয়ে যায় যায়। বিজ্ঞানী লরেন্ট কেলার জানিয়েছেন, রোগ যাতে বাকিদের মধ্যে ছড়িযে না পড়ে সেজন্য অন্য প্রাণিও নিজেদের গোষ্ঠীতে কীভাবে সতর্কতা অবলম্বন করে, সে ব্যাপারে এই প্রথম জানা গেল।