২০ বছরেও রাস্তার সংস্কার হয়নি তেশিমলায়

88

কৌশিক দাস  বড়দিঘি : রাস্তা সংস্কারের দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ জমছে তেশিমলা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকায়। গোলাবাড়ি-পশ্চিম হায়হায়পাথার যাওয়ার সাড়ে তিন কিমি, পূর্ব তেশিমলার মিঠু মোড় যাওয়ার আড়াই কিমি এবং ষাট কলোনি-ঠিকাদারপাড়ার দুই কিমি, সবমিলিয়ে প্রায় আট কিমি রাস্তা পাকা করার দাবিতে সরব গ্রামের বাসিন্দারা। যাতায়াতের অযোগ্য এই রাস্তাগুলো সংস্কারের ব্যাপারে গ্রামবাসীরা ২০ বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। ভোটের সময় নেতারা এসে প্রতিশ্রুতি দিলেও রাস্তাগুলো সংস্কারের ব্যাপারে কোনো  উদ্যোগ নেই বলে অভিয়োগ স্থানীয়দের।

তেশিমলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের অধিকাংশই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। বেশিরভাগ মানুষই দারিদ্র‌সীমার নীচে বসবাস করেন। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা জানান, কাঁচা রাস্তায় গরমের দিনে ধুলো আর বর্ষায় জলকাদা মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয় কয়েক হাজার বাসিন্দাকে। গ্রামের কয়েকশো ছাত্রছাত্রী এই রাস্তাগুলো দিয়ে স্কুল-কলেজে যায়। কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় জমির ফসল হাটবাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যেতে বড়ো গাড়িকে এলাকায় আসতে হয়। কিন্তু রাস্তার এই করুণ দশায় কোনো গাড়িই আসতে চায় না বলে অভিয়োগ গ্রামবাসীদের। এলেও অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়।  শুধু তাই নয়, রাস্তার বেহাল দশার কারণে অ্যাম্বুলেন্স বা মাতৃযান ঢুকতেও সমস্যায় পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা আবেদ আলি বলেন, ২০ বছর ধরে পাকা রাস্তার দাবি জানিয়ে আসছি আমরা। দিনেরবেলা প্রচণ্ড ধুলোয় চলাফেরা করাই দায়। বর্ষাকালে রাস্তায় এমন গর্ত হয় য়ে যাতায়াত করাই মুশকিল। দুলাল মহম্মদ নামে আরেক গ্রামবাসী বলেন, পূর্বতন বোর্ড রাস্তা নির্মাণের আশ্বাস দিলেও রাস্তা তৈরি হয়নি। বর্তমান বোর্ডের উপর আমাদের অনেক আশা। তেশিমলার অন্যান্য অংশে পিচের রাস্তা হয়েছে। অনেকদিন আমরা বঞ্চনা সহ্য করেছি। এবার আমরাও নতুন রাস্তা চাই।

তেশিমলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মিনারা পারভিন বলেন, এই রাস্তাগুলো করতে অনেক টাকার দরকার। গ্রাম পঞ্চায়েত তহবিলে এত টাকা নেই। গ্রামবাসীরা দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তাগুলো পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। জেলাপরিষদের সহায়তায় রাস্তাগুলো হওয়ার জন্য আমরা দাবি জানিয়েছি। জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। জেলাপরিষদের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে সদর্থক ভূমিকা নেওয়া হবে।