৫৭২ কোটি টাকা অবণ্টিত, বিপাকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দেড় লক্ষ সদস্য

449

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : ঋণের জন্য ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জেরে ওই টাকা বণ্টন করা যায়নি। এর জেরে জলপাইগুড়ি জেলায় ১৪ হাজার ৩৯৭টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী বিপাকে পড়েছে। এই গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যুক্ত ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯৭০ জন সদস্য কার্যত কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। জলপাইগুড়ি শহরের আহেলি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রধান বর্ণালী সরকার বলেন, আমাদের পুঁজির বড়ই অভাব। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ঋণ পাচ্ছি না। সহায়তা পেলে মহিলারা স্বনির্ভর হওয়ার দিশা পাবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নিতে হবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীসমূহের উপদেষ্টা লোপামুদ্রা অধিকারী বলেন, করোনা আমাদের সবদিক থেকেই ক্ষতি করেছে। কিন্তু আমাদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এভাবে সমস্যা হবে তা আগে ভাবতে পারিনি। জলপাইগুড়ির লিড ব্যাংক সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার ম্যানেজার দেবজিৎ সরকার বলেন, করোনা পরিস্থিতির জেরে ৩১ মার্চের মধ্যে আমরা ১৪ হাজার ৩৯৭টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে ৫৭১ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা বণ্টন করতে পারব কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবুও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের ঋণ দেওয়ার জন্য আমরা পুরোপুরি চেষ্টা করছি।

সূত্রের খবর, কর্মসংস্থান বিকাশের লক্ষ্যে জলপাইগুড়ি জেলার ২৩ হাজার ৪৯৩টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির মাধ্যমে ৬৩২ কোটি ৬ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আর্থিক বছর শেষ হওয়ার মুখে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলি মাত্র ৯,০৯৬টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ৬০ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা ঋণ দিতে পেরেছে। ব্যাংকগুলির কাছে ৫৭১ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা অবণ্টিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা প্রতি বছরই সময়মতো স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ঋণদানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে। কিন্তু এবারে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কি না তা নিয়ে ব্যাংক আধিকারিকদের সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি, টাকা না পেয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি সমস্যায় পড়েছে। জেলার ব্লকগুলিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের স্বনির্ভর করতে মশলা তৈরি, মাশরুম চাষ, পাঁপড় তৈরি, হস্তচালিত শিল্প প্রকল্প, বিউটিসিয়ান কোর্সের ব্যবস্থা রয়েছে। গয়না তৈরির প্রকল্পও রয়েছে। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের জন্য আগ্রহী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা পুঁজির জন্য ব্যাংকের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন। করোনা পরিস্থিতির জেরে ব্যাংকের আধিকারিকরা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের ডেকে বৈঠক করতে পারছেন না। তাঁরা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের কর্মক্ষেত্রেও যেতে পারছেন না। পরিণতিতে ঋণ মঞ্জুর করা সম্ভব হচ্ছে না। শীঘ্রই সমস্যা মেটাতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা দাবি জানিয়েছেন।