লক্ষাধিক টাকার শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত, গ্রেপ্তার ৩

416

রায়গঞ্জ: করোনা সংক্রমণ রুখতে রাজ্যের সর্বত্র সব ধরণের বাজি নিষিদ্ধ হয়েছে। তাই যেখানে বাজি বিক্রি করা হচ্ছে বা মজুত করা হচ্ছে সেখানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতেও রায়গঞ্জে অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রায় লক্ষাধিক টাকার শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত করেছে। একই সঙ্গে তিন ব্যক্তিক গ্রেপ্তার করেছে। হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও বাজি বিক্রি ও মজুত করার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷

কারণ, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনাকালে আতস ও শব্দবাজির ধোঁয়া ও গন্ধে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে যারা আক্রান্ত তারা সমস্যায় পড়বেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্ট সমস্ত রকম আতসবাজি ও শব্দবাজি নিষিদ্ধ করেছে। হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করতেই জেলায় জেলায় তৎপর হয়েছে পুলিশ৷ রায়গঞ্জ পুরসভা এবছর বাজিবাজার স্থগিত করে দিয়েছে। কিন্ত রায়গঞ্জ শহর ও শহরতলি এলাকায় দেদারে নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রি চলছে। পুলিশের কাছেও এমন অভিযোগ ছিল। চিকিৎসকদের পাশাপাশি পরিবেশবিদরাও এবছর উৎসবের দিনে শব্দ ও আতসবাজি পোড়ানোর বিরুদ্ধে সওয়াল করেছেন৷ পরিবেশবিদ চন্দ্রনারায়ন সাহা বলেন, এই পরিস্থিতিতে বারুদের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে৷ করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাই পুরোপুরিভাবে আতস ও শব্দবাজি পোড়ানো বন্ধ রাখতে হবে। পুলিশ প্রশাসনকে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। কলকাতা হাইকোর্টের তরফে করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নিষিদ্ধ করা হয় আতসবাজি ও শব্দবাজি। কোনওভাবেই যেন রাজ্যে বাজি বিক্রি না হয় তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এরপরেই জেলায় জেলায় তৎপরতার সাথে অভিযান শুরু করে পুলিশ৷

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার রাতে রায়গঞ্জের বিবেকানন্দ মোড় লাগোয়া এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ৷ যদিও আচমকা পুলিশি অভিযানের বিরুদ্ধে কিছু ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷ তাঁদের দাবি, আতসবাজি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে এমন কোনও খবর তাদের কাছে ছিল না। স্থানীয় প্রশাসন অথবা পুলিশ প্রশাসন থেকেও এবিষয়ে আগাম কোনও প্রচার করা হয় নি৷ সারা বছর ব্যবসা না হলেও কালীপুজোতে ভালো ব্যবসা হয়। তাই, দুই তিন মাস আগে থেকেই আতসবাজি মজুত করা হয়েছিল। আগে সতর্কতামূলক বার্তা দিলে এত বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না বলে জানান তারা। রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনু বন্ধু লাহিড়ী বলেন, লাইসেন্স প্রাপ্ত বাজি ব্যবসায়ীদের আগাম না জানিয়ে এভাবে বাজি বাজেয়াপ্ত ও গ্রেপ্তার আমরা সমর্থন করি না। কারণ, এরফলে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে সমাজে ব্যবসায়ীদের যে সুনাম ছিল তা ক্ষুন্ন হয়েছে। ব্যবসায়ীরা সবসময় সরকারকে সহযোগিতা করে। তাই পুলিশ প্রশাসনের এই ধরনের আচমকা হানা আমরা সমর্থন করিনা। রায়গঞ্জ থানার আই সি সুরজ থাপা জানান, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে বেআইনি আতস ও শব্দবাজি বিক্রি করায় তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।