এটিএমের নিরাপত্তারক্ষী করোনা আক্রান্ত, আতঙ্ক গ্রাহকমহলে

গাজোল: আরও এক করোনা আক্রান্তের হদিশ গাজোলে। তিনি গাজোলের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এটিএম গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি ভালুকা এলাকায়। রবিবার রাতে তাঁর পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

সোমবার তাঁকে একটি আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটিএম গার্ডের করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়ার পরই ওই ব্যাংকের সমস্ত কর্মীকে হোম কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে। এদিন নতুন তিন কর্মীকে নিয়ে ব্যাংকের জানালা দিয়ে লেনদেনের কাজ চালানো হয়েছে।

- Advertisement -

এদিকে এটিএম গার্ডের করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়ার পরই গাজোলবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রচুর মানুষ রয়েছেন, যারা ওই এটিএম থেকে টাকা তুলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদেরও সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। চিকিৎসক থেকে বিশেষজ্ঞ মহল সকলেই একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন, এটিএম কাউন্টারগুলি থেকে করোনা ছড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি।

কোনও গার্ড বা কর্মী যদি করোনা আক্রান্ত হয়ে ওই এটিএম কাউন্টারের ভেতর থাকেন এবং সেই কাউন্টারে এসি চলে, তাহলে করোনা সংক্রমণের হার অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই ওই কাউন্টার থেকে গ্রাহকদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।

ওই নিরাপত্তারক্ষী পরীক্ষার জন্য লালা দেওয়ার পর গতকাল দুপুর ২টো পর্যন্ত ডিউটি করেছেন। রাতে তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এ থেকেই পরিষ্কার, করোনা সংক্রমিত হওয়ার পরও ওই বদ্ধ জায়গায় ডিউটি করেছেন তিনি। সেই সময় যাঁরা ওই এটিএম ব্যবহার করেছেন, তাঁদের সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, যারা ওই এটিএম কাউন্টার ব্যবহার করেছেন নিজেদের স্বার্থেই তাঁদের লালা পরীক্ষা করানো দরকার। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই এটিএমটি ভালোভাবে স্যানিটাইজ করে আবার গ্রাহকদের জন্য খুলে দিয়েছে। এদিন থেকে নতুন গার্ড ডিউটি শুরু করেছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ক্যামেরার সামনে মুখ না খুললেও ওই ব্যাংকের সমস্ত কর্মীকে হোম কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। আপাতত নতুন কর্মীদের দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, ওই ব্যাংকের কাছের একটি বেসরকারি স্বর্ণ ঋণ প্রদানকারী সংস্থার এক কর্মীর করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। ওই কর্মীর বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরাম এলাকায়। এরপর থেকেই ওই সংস্থাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এদিন ওই মার্কেট কমপ্লেক্সের সমস্ত দোকান এবং আবাসন স্যানিটাইজ করা হয়েছে।

প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, এদিন থেকেই গাজোল ব্লকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আংশিক লকডাউন শুরু হয়ে গেল। লকডাউন চলাকালীন সকাল ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকছে সবজি এবং মাছ বাজার। দুপুর ২টো পর্যন্ত খোলা থাকছে অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর দোকান। লকডাউন নিয়ে গত দুদিন ধরে প্রশাসন এবং ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে গাজোলে মাইকিং চালানো হয়েছে।

এদিন সকাল থেকেই গাজোলের রাস্তায় প্রচুর সংখ্যক পুলিশ দেখা গিয়েছে। এত প্রচার করার পরেও যারা মাস্ক না পড়ে রাস্তায় বেরিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। দুপুর দুটোর পরও প্রচুর পরিমাণে পুলিশ টহল দেয় গাজোলে। ২ টোর পর যে গুটিকয়েক দোকান খোলা ছিল, সেগুলো বন্ধ করে পুলিশ।