রায়গঞ্জ শহরে করোনা আক্রান্ত আরও ১

652
ফাইল ছবি।

রায়গঞ্জ: ফের রায়গঞ্জ পুরসভা এলাকাতে মিলল করোনা আক্রান্তের খোঁজ। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লোহা কালিবাড়ি এলাকার ৬০ বছরের বৃদ্ধার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আশায় শহরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

ওই বৃদ্ধা ও তার ছেলে দিল্লিতে থাকতেন। ওই বৃদ্ধা পরিচারিকার কাজ করতেন। ছেলে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধা ও তার ছেলে চলতি মাসের ১৭ তারিখ মালদা হয়ে রায়গঞ্জে আসেন। ১৮ তারিখে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিভার ক্লিনিকে মা ও ছেলের লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

- Advertisement -

এদিন ওই বৃদ্ধার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই বৃদ্ধার দুই ছেলে, দুই বৌমা, তিন নাতিকে রায়গঞ্জ স্টেডিয়ামের কোয়ারান্টিন সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। এদিকে এই ঘটনার খবর এলাকায় জানাজানি হতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রায়গঞ্জ শহরে।

যদিও স্বাস্থ্য দপ্তর এবং রায়গঞ্জ পুরসভার আধিকারিকরা দাবি করেছেন, সচেতনভাবে থাকলে আতঙ্কের কিছু নেই। এই প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, সমস্ত এলাকাকে স্যানিটাইজ করে দেওয়া হয়েছে। ওই বৃদ্ধার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি বাড়ি রয়েছে। দুটি বাড়িকেই কনটেনমেন্ট জোন করা হয়েছে। আমরা পুরো বিষয়টির ওপর নজর রাখছি। এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতন কোনো কারণ নেই।

সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলর পুষ্পা মজুমদার বলেন, আমার এলাকায় ভিন রাজ্য ফেরত বৃদ্ধা করোনা আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের গাড়ি এসে ওই বৃদ্ধাকে কোভিড হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা যাতে আতঙ্কিত না হয় সেই ব্যাপারে সচেতনতা প্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বাকি পরিবারের সদস্যদের লালা রস পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে রায়গঞ্জ শহরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো চার।

রায়গঞ্জ শহরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক ইঞ্জিনিয়ার, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের এক টোটোচালক, ২ নম্বর ওয়ার্ডের এক স্বাস্থ্যকর্মীর মেয়ে এর আগে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে জেলা পুলিশ লাইনে করোনা আক্রান্ত কনস্টেবলের গত ২০ দিনে জেলা বা ভিন রাজ্যে যাননি তিনি। করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শেও আসেননি। এই পরিস্থিতিতে তাঁর করোনা পজিটিভ মেলায় উদ্বিগ্ন জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। জেলায় গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়ালো কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও উত্তরবঙ্গে করোনা চিকিৎসায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ওএসডি সুশান্ত রায়ের বক্তব্য, এখনও উত্তর দিনাজপুরে গোষ্ঠী সংক্রমণের খবর নেই।