করোনা উপসর্গ নিয়ে রায়গঞ্জ মেডিকেলে ফের মৃত্যু

280
ফাইল ছবি

রায়গঞ্জ: করোনা উপসর্গ নিয়ে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে ফের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।

মঙ্গলবার আইসোলেশন বিভাগে মৃত্যু হল এক কিশোরের। সোমবার গভীর রাতে জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের আইসোলেশন বিভাগে ভর্তি হয় ওই কিশোর। এদিন দুপুর একটা নাগাদ তার মৃত্যু হয়। এদিকে ওই কিশোরের মৃতদেহ নিতে এসে বেধড়ক মারধর খেতে হয় মর্গের কর্মীদের।

- Advertisement -

অভিযোগের তীর মৃত কিশোরের পরিবার-পরিজনদের বিরুদ্ধে। সেখান থেকে পালিয়ে কোনওক্রমে প্রাণে বাঁচেন মর্গের কর্মীরা। সমস্ত বিষয়টি জানানো হয় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় ও নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদারকে। পাশাপাশি খবর যায় রায়গঞ্জ থানায়। পুলিশ আসার আগেই পরিবারের একাংশ সেখান থেকে চম্পট দেয়। এরপর হাজির হয় গ্রামের মাতব্বররা।

তাঁদের হস্তক্ষেপে মৃতদেহ রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। যদিও মর্গের স্বাস্থ্যকর্মীদের মারধোর করার ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা মৃতদেহ নিয়ে যেতে অস্বীকার করেন। গ্রামের মাতব্বররাই মৃতদেহের ট্রলি টেনে ফ্রিজে ঢোকানোর ব্যবস্থা করে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই কিশোরের বাড়ি ইটাহার থানার বেকিডাঙ্গা গ্রামে।

মৃত কিশোরের দাদা বলেন, সাত দিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ভুগছিল আমার ভাই। গ্রামের কোয়াক ডাক্তার দেখানো হয়েছিল। গতকাল আমার ভাইয়ের অবস্থা ক্রমশ অবনতি হওয়ায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। এদিন দুপুর একটা নাগাদ জানতে পারি আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, লালার নমুনা ও মৃতদেহ ময়নাতদন্ত না করা পর্যন্ত আমাদের মৃতদেহ দেবে না।

তিনি আরও বলেন, কারোর গায়ে হাত দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, লালার নমুনা না আসা পর্যন্ত মৃতদেহ দেওয়া হবে না। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, একটা ঘটনা ঘটেছিল। সমস্ত বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন, আইসোলেশন বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তা নিয়ে দুইজন স্বাস্থ্যকর্মীকে মারধর করার অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে গতকাল করোনা উপসর্গ নিয়ে এক যুবকের মেডিকেলের আইসোলেশনে মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি কালিয়াগঞ্জ থানার বুড়িডাঙ্গি এলাকায়। তার লালার রিপোর্ট এখনও না আসায় মৃতদেহ রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

মৃত যুবকের বাবা বলেন, এখনও হাসপাতালে তরফে আমাদের ফোন করা হয়নি। ছেলের মৃতদেহ নেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফোন করা হয়েছিল। তাঁরা বলেছে, লালার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃতদেহ দেওয়া হবে না।