১ হাজার টাকা মাসিক ভাতা, অনাহারে দিন কাটছে জেলার লোকশিল্পীদের

244

রায়গঞ্জ: করোনা অতিমারির জেরে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি অনুষ্ঠান বন্ধ। সামান্য এক হাজার টাকা ভাতায় সমস্যার মধ্যে পড়েছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার কয়েক হাজার লোকশিল্পী। মাসিক হাজার টাকা দিয়ে পরিবার পরিজনদের দুবেলা নুন ভাত জোটাতে প্রতিদিন তীব্র লড়াই করতে হচ্ছে জেলার কয়েক হাজার বাউল, ভাওইয়া, খন সহ সমস্ত লোকসংগীত শিল্পীদের।

প্রখ্যাত বাউলশিল্পী তরণী সেন মহন্ত বলেন, ‘প্রায় দু’বছর ধরে সরকারি বেসরকারি সমস্ত অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনাহারে দিন কাটছে শিল্পীদের। অনেকে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। আবার কেউ চরম অভাবে বেছে নিয়েছেন আত্মহত্যার পথও। রাজ্য সরকারের মাসিক এক হাজার টাকা করে বেশকিছু শিল্পী ভাতা পেলেও তা দিয়ে সংসার চলেনা। তাই আমাদের দাবি প্রকৃত শিল্পীদের কমপক্ষে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হোক। রাজ্য ও কেন্দ্র দুই সরকারের কাছে প্রার্থনা আমাদের বাঁচতে দিন। আমরা কেউ ভালো নেই। শিল্পীরা এখন কেউ সবজি বিক্রি করছে। আবার কেউ টোটো চালাচ্ছেন। শিল্পীরা প্রায় দিন তাদের কষ্টের কথা জানাতে আসছেন। কিছুই করতে পারছি না।’ বাউল শিল্পী নিত্যানন্দ দাস বলেন, ‘রাজ্য সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি ভাতা একটু বৃদ্ধি করে বাঁচার পথ করে দিক।’

- Advertisement -

বাউলশিল্পী দিলিপ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সারা বছর সরকারি বেসরকারি নানান অনুষ্ঠানে গান বাজনা ও সঙ্গীত পরিবেশন করে যে রোজগার হত তা দিয়েই পরিবার চলে যেত। এখন কিছুই নেই।’ জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক রানা দেবদাস বলেন, ‘শিল্পীরা তাদের দাবি দাওয়া আমাকে জানায় নি। আমাকে জানালে রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। তবে নতুন করে আর কাউকে ভাতা দেওয়া হয়নি।’ জেলা পরিষদের সভাধিপতি কবিতা বর্মন বলেন, ‘লোকশিল্পীদের বিষয়টি তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর দেখে। আমাদের কাছে তাঁরা আবেদন পত্র দিলে সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে দেব।’