হড়পায় ভাসল ১০ বাড়ি, আতঙ্কে রাত জাগল মাল শহর

282

মালবাজার : বৃহস্পতিবার রাতে মাল নদীতে হড়পার ফলে মাল শহরের বেশ কিছু বাড়ি তলিয়ে গিয়েছে। এদিন সন্ধ্যা থেকেই নদীতে জল বাড়তে শুরু করে। মাল শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় নদী থাবা বসিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাত ১০টা পর্যন্ত শহরের গোটা দশেক বাড়ি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। তবে যেভাবে নদী ক্রমশ ফুলেফেঁপে উঠছে, তাতে এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ওই এলাকায় যাঁদের বাড়ি তাঁরা রাতেই বাড়িঘর ছেড়ে সরে গিয়েছেন। মালপত্র সঙ্গে নিয়ে অসহায়ে মতো নিরাপদ আশ্রয়ে সন্ধান করছেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, পাহাড়ে প্রবল বৃষ্টির জেরেই মাল নদীতে জল বেড়েছে।

- Advertisement -

দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে পুরসভা। মাল পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য কৌশিক দাস (টুবাই) বলেন, আমরা এলাকায় গিয়েছিলাম। বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আপাতত দুর্গতদের ত্রিপল দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নদীসংলগ্ন এলাকায় বাড়ি বিমল রায়, রজনী রায়, শংকর পাসোয়ান, রফিকুল ইসলামদের। চোখের সামনে তাঁদের বাড়িঘর জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে।  ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা বিমল রায় বলেন, আমরা দিন আনি দিন খাই। এভাবে বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছি। সন্ধ্যায় কাজ থেকে বাড়ি ফিরে দেখি নদীর জল দ্রুত বেড়ে চলেছে। চোখের সামনে সব তলিয়ে গেল। রাত যত বাড়ছে জল বাড়ছে। আমরা বাঁধের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছি।

তবে কেবলমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারাই নন। আশপাশের এলাকার বাসিন্দারাও চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন। রাত পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত আছে। বেশি রাতে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য। এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মনিলা রায় বলেন, আমাদের বাড়িঘর এখনও সেরকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে দুশ্চিন্তায় রাত জাগছি। যে কোনও সময়ে মাল নদী আমাদের বাড়িকেও গ্রাস করতে পারে।

প্রসঙ্গত, মাল শহরের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে পাহাড়ি মাল নদী বয়ে চলেছে। এর আগেও প্রবল বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে উঠেছে সেই নদী। কিছুদিন আগেই শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁধ এলাকায় থাবা বসিয়েছিল। সেবারও দুটি বাড়ির ক্ষতি হয়েছিল।