১০ শতাংশ উৎপাদন কমেছে ডুয়ার্সের চা বাগানে

97

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : সদ্য শেষ হওয়া ২০২০ সালে ২০১৯-এর চেয়ে ১০ শতাংশ উৎপাদন কমেছে ডুয়ার্সের চা বাগানে। লকডাউন ও অতিবৃষ্টির জোড়া ফলায় বিদ্ধ হয়ে এই ঘাটতি। চা গবেষণা সংস্থা টিআরএর উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক গবেষণা ও উন্নয়নকেন্দ্র সূত্রে খবর, এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছিল রেড স্পাইডার, থ্রিবস, হেলোপেলটিস, গ্রিন ফ্লাই জাতীয় রোগপোকার আক্রমণের সমস্যাও। নাগরাকাটার টিআরএর কেন্দ্রের অ্যাগ্রোনমি বিভাগের প্রধান ডঃ সোমেন বৈশ্য বলেন, নতুন বছরের প্রতি প্রত্যাশা অনেক। এখন শীতের শুখা মরশুম চললেও দু-তিনদিন আগেও তাপমাত্রা তেমনভাবে কমেনি। পৌষ সংক্রান্তির পর ফের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলে আশা করা যায় গাছে নতুন কুঁড়ি আসার প্রক্রিয়াটি এবার দ্রুত হবে। ২০২০ সালে আগের বারের তুলনায় ডুয়ার্সে উৎপাদন মোটের ওপর ১০ শতাংশ কম হয়েছে।

টিআরএ জানাচ্ছে, লকডাউনের সময় যখন বাগানগুলি বন্ধ ছিল, তখন কাঁচা পাতা আকারে বড় হয়ে যায়। ফলে সেগুলি পরে ছাঁটাই করে ফেলে দিতে হয়। তাই ফের নতুন কুঁড়ি আসতে কিছুটা সময় লেগেছে। এর সঙ্গে জুলাই-অগাস্টের অতিবৃষ্টি ও রোগপোকার আক্রমণ হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। ডুয়ার্সে চা শিল্পকে ৭টি এলাকায় ভাগ করা হয়। সেগুলি হল, ডামডিম, চালসা, নাগরাকাটা, বিন্নাগুড়ি, দলগাঁও, কালচিনি ও জয়ন্তী সাব-এরিয়া। আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি প্রশাসনিক জেলার সবকটি চা এলাকা মিলে বাগানের সংখ্যা প্রায় ১৫০। বেশিরভাগ বাগানেই ২০২০ সালের উৎপাদন ২০১৯-এর চেয়ে কম হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। টিআরএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী অবশ্য ওই ৭ সাব-এরিয়া মিলে তাদের সদস্যভুক্ত বাগানগুলিতে ২০২০-র ডিসেম্বরে ২০১৯-এর ডিসেম্বরের চেয়ে গড়ে উৎপাদন প্রায় ৯ শতাংশ বেশি হয়েছে। যদিও তা সারা বছরের ক্ষতিকে সামাল দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট ছিল না। অন্য সাব-এরিয়ায় এবারের ডিসেম্বরে উৎপাদন বাড়লেও কেবলমাত্র জয়ন্তী সাব-এরিয়া এই তালিকার বাইরে রয়েছে। সেখানে ২০১৯-এর ডিসেম্বরের তুলনায় উৎপাদন প্রায় ৭ শতাংশের মতো কমেছে।

- Advertisement -

টি বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী এবারের শুখা মরশুমে ডুয়ার্সের বাগানে ১৯ ডিসেম্বর থেকে কাঁচা পাতা তোলা বন্ধ রয়েছে। ২১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে কাঁচা পাতা ফ্যাক্টরিতে প্রক্রিয়াকরণের কাজ। ১ জানুয়ারি ছিল উৎপাদিত সিটিসি জাতীয় চায়ে সর্টিং, প্যাকেটিং ও গুদামজাতকরণের শেষ তারিখ। গ্রিন ও অর্থোডক্স জাতীয় চায়ের ক্ষেত্রে ওই শেষ তারিখটি বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ৬ জানুয়ারি। নয়া মরশুমে কবে থেকে উৎপাদন চালু হবে, তা এখনও টি বোর্ড জানায়নি। তবে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি দেখে চা মহলের ধারণা, এবার গাছে নতুন কুঁড়ি আগেভাগেই চলে আসবে। মালিকপক্ষের সংগঠন ডিবিআইটিএর সম্পাদক সঞ্জয় বাগচী বলেন, এবার এখনও পর্যন্ত দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আগের বছরগুলির চেয়ে ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। ফলে সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে চালু হওয়া ফার্স্ট ফ্লাশের মরশুম আগেই শুরু হয়ে যাবে। টি বোর্ড সমস্ত কিছু বিবেচনা করে যাতে উৎপাদন চালুর দিনক্ষণ ঘোষণা করে, সেই আর্জি জানাচ্ছি। জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, চাষিদের শীতকালীন পরিচর্যার কাজ এবার আগের থেকেও ভালো হচ্ছে। সেই সঙ্গে আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে, যে কারণে কিছুটা আগেই উৎপাদন চালু করা যেতে পারে বলে আমাদের অভিমত।