বাড়িতে বসেই দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিল খুদে পড়ুয়া

941

সুভাষ বর্মন, পলাশবাড়ি: নিছক শখের বশে এক খুদে পড়ুয়া তৈরি করল দুর্গা প্রতিমা। যদিও এসব ঘটনা এখন নতুন কিছু নয়। কিন্তু আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পলাশবাড়ি এলাকায় আগে কখনও কোনও খুদে পড়ুয়া এভাবে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেনি। এবারই প্রথম নিউ পলাশবাড়ির পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র কৌশিক সরকার প্রতিমা তৈরি করে গোটা এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছে। পাড়ার মানুষও ক্ষুদ্র প্রতিমা দেখার জন্য ওই বাড়িতে ভিড় করছেন। কী করে ছেলে এই প্রতিমা তৈরি করল তা এখনও বিশ্বাসই করতে পারছেন না পেশায় শিক্ষক পলাশ সরকার। এজন্য ওই খুদে পড়ুয়াকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সৌরভ পাল।

নিউ পলাশবাড়ির পশ্চিম কাঁঠালবাড়ি গ্রামে বাড়ি কৌশিক সরকারের। তার বয়স ১১ বছর। সে ফালাকাটা হাইস্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। বাবা পলাশ সরকার রাঙালিবাজনা মোহনসিং হাইস্কুলের ইংরেজির শিক্ষক। মা সরস্বতী সরকার গৃহবধূ। খুদের হাতে দুর্গা প্রতিমা তৈরি হওয়ায় হঠাৎ করেই এই পরিবারের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এক ফুট লম্বা ও দুই ফুট চওড়া প্রতিমার প্রশংসার বন্যা বইছে। কিন্তু এই ছোট্ট পড়ুয়া কীভাবে তৈরি করল আস্ত একটি প্রতিমা? ওই পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব ছোটোবেলা থেকেই দেবদেবীর মূর্তির প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় কৌশিকের। পরিবারের সঙ্গে মেলায় গেলে সে দেবদেবীর মূর্তির খেলনা কিনে নিত। বাড়িতে এরকম প্রচুর খেলনা মূর্তি রয়েছে। এবার পড়াশোনার ফাঁকে দু’মাস আগে থেকেই দুর্গা প্রতিমা তৈরির পরিকল্পনা করে কৌশিক।

- Advertisement -

তার এই পরিকল্পনা অবশ্য পরিবারের কেউ জানতে পারেনি৷ সে বারবার আবেদন জানিয়ে বাবার মাধ্যমে রং, তুলি কিনে নেয়। বাড়িতে ছিল সরস্বতী প্রতিমা। গ্রামে বাড়ি হওয়ায় খড় ও বাঁশ ছিলই। প্রতিদিন একটু একটু করে কাজ চালিয়ে যায় কৌশিক। কীভাবে দুর্গা প্রতিমা তৈরি কর‍তে হবে, সেই কৌশল ইউটিউভ দেখে সে শিখে নেয়। পুরোনো সরস্বতী প্রতিমার কাপড়, অলংকার ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেটে নিয়ে দুর্গা প্রতিমার ক্ষেত্রে কাজে লাগায়। দেবদেবীর খেলনা পুতুলের মুখে মাটির প্রলেপ দিয়ে ছাপ নিয়ে পরে তা রোদে শুকিয়ে নেয়৷ সম্প্রতি এভাবেই ওই খুদে পড়ুয়ার হাতে তৈরি হয় দুর্গা প্রতিমা। যা দেখে তাজ্জব হয়ে যায় গোটা পরিবার ও পাড়ার লোকজন। কৌশিক বলে, দুমাস প্রতিমা তৈরির কাজকেই আমি খেলা মনে করতাম। প্রথমে কাউকে বুঝতে দিইনি। এখন আমারও ভালো লাগছে।

বাবা পলাশ সরকার বলেন, আমরা সবাই অবাক হয়েছি। পড়াশোনার ফাঁকে ছেলে বাড়িতেই এসব নিয়ে খেলার ছলে থাকত। ওর মনে যে এরকম পরিকল্পনা ছিল তা বুঝতে পারিনি। এই প্রতিমার পুজো না হলেও বাড়িতে যত্নসহকারে রাখা হবে। পূর্ব কাঁঠালবাড়ির উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, এই এলাকায় ওই খুদে পড়ুয়াই প্রথম, যে এভাবে নিজের হাতে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করল। ওর এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। ওর ভবিষ্যত উজ্জল হোক, সেই কামনা করি।