১০০ কোটি টাকার রাস্তার কাজ আটকে

226
প্রতীকী ছবি

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : পূর্ত দপ্তরের (সড়ক) ১০০ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্প রাজ্যে আটকে রয়েছে। কোচবিহারের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক রাস্তা ও সেতু তৈরির জন্য দপ্তরের এই টাকা প্রয়োজন। কিন্তু টাকা না থাকায় দপ্তর এই কাজগুলি করতে পারছে না। বর্ষার মরশুম চলছে। একেই তো রাস্তাঘাটের বেহাল দশা হয়েছে, তার ওপর বৃষ্টির জমা জলে বাসিন্দাদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে। পূর্ত দপ্তর (সড়ক)-এর এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জ্যোতির্ময় মজুমদার বলেন, বেশ কিছু রাস্তা ও সেতু তৈরির জন্য নাবার্ড ও রাজ্যে ডিটেল প্রোজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পগুলির অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে খবর, রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (আরআইডিএফ)-এর টাকায় কোচবিহারের চারটি রাস্তা আরও মজবুত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কারের কথা ছিল। এই রাস্তাগুলির মধ্যে মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের শিলডাঙ্গা থেকে ফালাকাটা যাওয়ার প্রায় ১৯ কিলোমিটার রাস্তা, এই ব্লকেরই শিলডাঙ্গা মোড় থেকে প্রেমেরডাঙ্গা হয়ে তোর্ষা নদী পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি রাস্তা, তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের দেউচড়াই মোড় থেকে কালজানি যাওয়ার প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা, তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের হরিপুর থেকে কামাখ্যাগুড়ি পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এই রাস্তাগুলির জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ কোটি টাকা প্রযোজন। গত বছর পুজোর পর জেলা থেকে নাবার্ডের রাজ্য দপ্তরে ডিপিআর পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা অনুমোদন হয়ে টাকা না আসায় রাস্তার কাজগুলি করা যাচ্ছে না।

- Advertisement -

পাশাপাশি, রাজ্য বাজেটের ফান্ড থেকে ৪০-৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হলেও টাকা না আসায় সংশ্লিষ্ট কাজগুলি করা যাচ্ছে না। এই কাজগুলির মধ্যে কোচবিহার-১ ব্লকের ডাউয়াগুড়ি এলাকায় একটি পুরোনো ভাঙা সেতু নতুনভাবে তৈরির বিষয় রয়েছে। এই কাজটির জন্য প্রায় আট কোটি টাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি, মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকে শিলডাঙ্গা এলাকায় তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি রাস্তা সংস্কার, রাজেন তেপথি এলাকায় একটি রাস্তা, তুফানগঞ্জ-১ ব্লকে দুটি রাস্তা সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকটি ছোট রাস্তা সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া ছিল। সেইমতো এই কাজগুলির ডিপিআর গত বছর রাজ্যে পাঠানো হলেও সেখান থেকে টাকা না আসায় এই কাজগুলির ভবিষ্যৎও আটকে রয়েছে। সময়মতো রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় বর্ষায় ইতিমধ্যেই ভোগান্তি শুরু হয়েছে। এই ভোগান্তি যাতে আরও না বাড়ে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে।