১০৮০ জন ঘরছাড়া, পাশে নেই বিজেপি নেতারাই

163
ফাইল ছবি।

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, কোচবিহার : রাজ্যপালের পরিদর্শনে সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় হওয়ায় ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসে উৎখাত কোচবিহারের যে বাসিন্দারা অসমে চলে গিয়েছিলেন তাঁরা ফিরতে পেরেছেন বটে, তবে এখনও কোচবিহার জেলায় ঘরছাড়া বিজেপি কর্মী-সমর্থকের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি। এছাড়া ঘাসফুলের নেতাদের দাবি মেনে  ফাইন না দেওয়ায় জেলায় অনেক ছোট-বড় ব্যবসায়ী দোকান খুলতে পারছেন না। কর্মস্থলে যেতে পারছেন না কেউ কেউ। বীজতলা শুকিয়ে গেলেও ধান রোপণ করতে পারেননি অনেকে।

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার মুচলেকা দিয়ে বা তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়ে কেউ কেউ ঘরে ফেরার অনুমতি পেলেও রাজ্যে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের ৩,৪৪০টি অভিযোগ পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। ঘরছাড়া করা ছাড়াও মারধর, বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট, জমিদখল, দোকান বন্ধ করে দেওয়ার মতো নানা অভিযোগ আছে। প্রতিটি অভিযোগই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।

- Advertisement -

এরমধ্যে কোচবিহার জেলায় অভিযোগের সংখ্যা ৫৩০টি। গত ৩ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১৪৫টি অভিযোগ বিভিন্ন থানায় হাতে হাতে জমা দিয়েছেন আক্রান্তরা। বিজেপির অভিযোগ, ২০ মের পর থেকে অনেক থানা নিতে অস্বীকার করায় রেজিস্ট্রি পোস্টে বহু অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। অনেক অভিযোগপত্র এখনও গ্রহণ করেনি পুলিশ। বিজেপির হিসাবে শুধু কোচবিহার জেলায় এখনও ১,০৮০ জন দলীয় কর্মী-সমর্থক ভয়ে পালিয়ে আছেন।

এমন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছে পুলিশও। কোচবিহারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুমার সানিরাজ বলেন, যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হচ্ছে। তদন্ত করে পদক্ষেপও করা হয়েছে। বিজেপির কোচবিহার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজু রায়ের অবশ্য অভিযোগ, ৫৩০টির মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি মাত্র অভিযোগ নথিভুক্ত করে মামলা চালু করেছে পুলিশ। বাকি অভিযোগগুলির আইনগত প্রক্রিয়া শুরু বা তদন্ত না করে ফেলে রাখা হয়েছে।

তৃণমূল অবশ্য এ ধরনের অভিযোগের সারবত্তা উড়িয়ে দিচ্ছে। তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বক্তব্য, জেলায় বিজেপিই বেশি আসন জিতেছে। তারাই গ্রামে গ্রামে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। তারপর আমাদের বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ তুলে মিডিয়ার ফুটেজ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

বিজেপির নীচুতলার নেতা-কর্মীরা অবশ্য ক্ষুব্ধ তাঁদের এই দুর্দশায় বড় নেতাদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে না বলে। তাঁদের অভিযোগ, দেখা মিলছে না বিধায়ক, সাংসদদের। কেউ কলকাতায়, কেউ দিল্লিতে ব্যস্ত। ঠান্ডা ঘরে বসে ফেসবুক বা টক শোয় গলা ফাটাচ্ছেন কেউ কেউ। সায়ন্তন বসুর মতো রাজ্য নেতারা এক-দুবার জেলায় এলেও ঘরছাড়াদের ফেরাতে দলীয়ভাবে কার্যত কোনও শক্ত পদক্ষেপই করা হয়নি।

জেলা বিজেপি সূত্রের খবর, ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ১ জুন জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে জেলার ছয় বিধায়ক ও সাংসদের ধর্না কর্মসূচি দলীয় বৈঠকে নেওয়া হলেও তা  বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে জেলা বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ জমছে। জেলা নেতাদের একাংশ মনে করছেন, রাজ্য ও সর্বভারতীয় নেতারা এসে যদি লাগাতার আন্দোলন গড়ে তুলতেন, তাহলে পরিস্থিতি এত খারাপ হত না।

বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য সাফাই দিয়ে বলেন, কোভিড পরিস্থিতির জন্যই বড় আন্দোলন করা যাচ্ছে না। ঘরছাড়াদের ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অত্যাচারিতদের দু-একজন হয়তো রাগের বশে কিছু বলছেন। সেটা স্বাভাবিক। কোচবিহার জেলায় সব থেকে বেশি অভিযোগ উঠছে দিনহাটা বিধানসভা এলাকা থেকে। তারপরই রয়েছে শীতলকুচি, সিতাই ও তুফানগঞ্জের নাম।

দুদিন আগে দিনহাটা শহরে এক বিজেপি নেতার বাড়ি, জমি দখলের অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। শনিবার দিনহাটা থানায় আরও একটি বাড়ি দখলের অভিযোগ জমা পড়েছে। দিনহাটার পুঁটিমারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক অরিজিৎ দাসের অভিযোগ, ঝান্ডা লাগিয়ে তৃণমূল তাঁর বাড়ির দখল নিয়েছে। কোচবিহার দক্ষিণ, মাথাভাঙ্গা, নাটাবাড়ি বিধানসভা এলাকায় অভিযোগ এখন আগের তুলনায় অনেক কম।