বর্ধমান ২১ নভেম্বরঃ বীরত্বের দৃষ্টান্ত গড়ে রাজ্য সরকার কর্তৃক বীরপুরুষ সন্মান পেল দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ুয়া  ছাত্র অনিমেষ মণ্ডল। বর্ধমান শহরের বাঁকার পাড়ে বীরহাটার বস্তির এক কুঠুরি ঘরে বসবাস অনিমেষের পরিবারের। প্রায় দশ বছর আগে তার বাবা সংসার ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। ছোট বয়স থেকেই মা গীতুয়া মণ্ডলের সঙ্গে জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ হয় অনিমেষ। শুধু পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই নয়। সমাজের স্বার্থেও লড়াইয়ে নামে বর্ধমানের বিদ্যার্থীভবন উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ুয়া এই ছাত্র। সে নিজে উদ্যোগী হয়ে একাধিক স্কুলছুটকে যেমন স্কুলমুখী করেছে তেমনি রুখে দিয়েছে এলাকার একাধিক নাবালিকাদের বিয়ে। এমন  সকল সাহসী কর্মকাণ্ড অংশ নেওয়া অনিমেষকে বুধবার বীরপুরুষ সন্মান দিয়েছে রাজ্য সরকার। বর্ধমান ওয়েবের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সম্বর্ধনা দেওয়া হয় এই বীর ছাত্রকে। অনিমেষের এই সাফল্যে খুশি তার মা ও প্রতিবেশীরা। সাহসী কাজের স্বীকৃতি  স্বরুপ প্রতিবছর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চাইল্ড প্রোটেকশন অ্যাণ্ড চাইন্ড রাইটস কমিশন এই পুরস্কার দিয়ে থাকে । ছেলেদের ক্ষেত্রে  পুরষ্কারের নাম ‘বীরপুরুষ’ আর মেয়েদের ক্ষেত্রে এই পুরষ্কারের নাম হল ‘বীরঙ্গনা। গত বছর এই  বীরঙ্গনা সম্মান পেয়েছিল বর্ধমান শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষীপুর মাঠ এলাকা নিবাসী  দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী পমি মাহাতো।
এদিন  অনিমেষ জানিয়ছে , ওয়ার্ল্ড ভিসন ইণ্ডিয়া নামে একটি সংস্থা ২০১১সালে তাদের এলাকায় কাজ করতে আসে। ওই সংস্থা মূলত বাল্যবিবাহ, শিশু সুরক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি নিয়েই কাজ করে থাকে। ছোট বয়সেই সে ওই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়। সচেতনতা মূলক কাজে তার  আগ্রহ দেখে ওই সংস্থা ২০১৫ সালে তাকে নিজের এলাকার চিলড্রেন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন  করে। এরপর প্রায় ১৫০ জনকে নিয়ে টিম তৈরি করে অনিমেষ ২০১৬ সাল থেকে কাজ শুরু করে দেয়। ২০১৬-২০১৯ সাল পর্যন্ত সে রুখে দিয়েছে ৫টি বাল্যবিবাহ। একই সঙ্গে নিজের ও পাশের বস্তির  ৮জন স্কুল ছুট বাচ্চাকে  সে পুনরায় স্কুলে ফিরিয়েছে। এছাড়াও নানা ধরনের  সচেতনতা কর্মসূচীর আয়োজন করে অনিমেষ নিজের পিছিয়ে পড়া এলাকার সকলকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখিয়ে চলেছে। বর্ধমানের কিশোর ও তরুণ মহলে  অনিমেষই এখন আইকন।