নেকিপাড়ার ১২টি পরিবারের রান্না ভারতে আর ঘুমানো বাংলাদেশে

70

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : ওঁদের রান্নাঘর ভারতে, শোয়ার ঘর বাংলাদেশে। অবাক করার মতো ঘটনাই বটে। জলপাইগুড়ি সদরের অন্তর্গত নেকিপাড়ার ১২টি পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতিতেই বসবাস। পরিবারের সদস্যদের কাছে দুই দেশেরই ভোটার কার্ড রয়েছে। ওঁরা জলপাইগুড়ি বিধানসভার পাশাপাশি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলায় ভোট দেন। সীমান্তের জমি চিহ্নিতকরণ না হওয়ার জেরেই এই বাসিন্দারা সমানভাবে দুই দেশেরই বাসিন্দা বনে গিয়েছেন। ১৭ এপ্রিল জলপাইগুড়িতে বিধানসভা ভোট। এবারের ভোটে তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যা মিটে যাবে বলে মহাবুল, কামরুল, মইনুদ্দিন, মোশারফরা মনে করছেন।

কী কারণে মহাবুলদের এই অদ্ভুত সমস্যা? প্রশাসন সূত্রে খবর, নেকিপাড়া দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত গেলেও দীর্ঘদিন ধরে এখানকার জমি চিহ্নিতকরণ হয়নি। এই এলাকা নির্দিষ্টভাবে ভারত নাকি বাংলাদেশের, তা এখনও চিহ্নিত না হওয়ায় এখানকার ১২টি পরিবারের ২২ জন সদস্য দ্বৈত নাগরিকত্ব উপভোগ করেন। নেকিপাড়ার সামনেই সীমান্ত সুরক্ষাবাহিনীর চেকপোস্ট রয়েছে। নেকিপাড়া থেকে যাঁরা বেরুবাড়ি সহ অন্যত্র আসেন, চেকপোস্টে তাঁদের সচিত্র পরিচয়পত্র গচ্ছিত রাখতে হয়। বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় তাঁরা ওই পরিচয়পত্র নিয়ে যান। জমি চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে সমস্যার জেরে মহাবুল, কামরুলরা দুই দেশের মাটিতেই চাষ-আবাদ করেন। নেকিপাড়ার সকলেই কৃষিজীবী। আলু, টমেটো, কাঁচালংকা সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করেন। যখন যেখানে যেমন সুবিধা হয়, সেইমতো সেই দেশে তাঁদের ফসল বিক্রি করেন। নেকিপাড়ার ছেলেমেয়েরা অবশ্য ভারতীয় কোনও স্কুলে পড়াশোনা করে না। তারা চাকলাহাটের প্রাথমিক, উচ্চবিদ্যালয় এবং পঞ্চগড়ের কলেজে পড়াশোনা করে।

- Advertisement -

তবে দুই দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে মহাবুলদের ওপর দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর সদাসতর্ক নজর থাকে। সূত্রের খবর, নেকিপাড়ার বাসিন্দারা বাংলাদেশের আওয়ামি লিগকে সমর্থন করেন। আবার এই দেশে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। বেরুবাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে নেকিপাড়ার বাসিন্দাদের বেশ ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বেরুবাড়ির অনুপম কলোনির বাসিন্দা কার্তিক সরকার, গঙ্গারাম সরকাররা এমনটাই জানিয়েছেন। সীমান্তের জমি চিহ্নিতকরণের সমস্যা কবে মিটবে তা মোশারফদের জানা নেই। এবারে পশ্চিমবঙ্গের ভোট তাঁদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যা মেটাবে বলেই তাঁদের বিশ্বাস। এই বিশ্বাস নিয়ে কামরুলরা এবারও বেরুবাড়ি সংলগ্ন একটি প্রাথমিক স্কুলে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসবেন।