উত্তর দিনাজপুরে করোনায় আক্রান্ত ৮ স্বাস্থ্যকর্মী

353

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুর জেলায় করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মঙ্গলবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১২ জন। তাদের মধ্যে ৮ জনই স্বাস্থ্যকর্মী, ৩ জন ভিন রাজ্য ফেরত শ্রমিক এবং একজন মালদা পরিসংখ্যান দপ্তরের ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত। ৩ শ্রমিকের মধ্যে একজনের বাড়ি রায়গঞ্জ থানার কমলাবাড়ী, একজনের বড়ুয়া, বাকি একজন শ্রমিকের খবর জানা যায়নি। এদিকে কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী, রায়গঞ্জ ব্লকের বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের একজন আশাকর্মী রয়েছেন।

পরিসংখ্যান দপ্তরের আধিকারিকের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আশার পাশাপাশি ৮ স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা পজেটিভের রিপোর্ট আসতেই উদ্বিগ্ন উত্তর দিনাজপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। জেলায় গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়াল কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও করোনা চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওএসডি সুশান্ত রায়ের বক্তব্য, ‘এখনও উত্তরে গোষ্ঠী সংক্রমনের খবর নেই।’ বস্তুত, এদিন সকালে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রায়গঞ্জ মহাকুমার বিভিন্ন ব্লকে ১২ জনের পজিটিভ রিপোর্ট পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে মালদহ জেলার পরিসংখ্যান দপ্তরে কর্মরত ইটাহারের বাসিন্দার ১৯ তারিখে লালার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এদিন আসতেই রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গতকালও করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তি মালদার পরিসংখ্যান দপ্তরে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

এদিন সন্ধ্যায় ওই ব্যক্তিকে রায়গঞ্জের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রায়গঞ্জ ব্লকের কমলাবাড়ির বাসিন্দা দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। স্বামী স্ত্রী ও পাঁচ বছর ও তিন বছরের পুত্র সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। তিনি পেশায় নির্মাণ শ্রমিক। ভিন রাজ্য থেকে চলতি মাসের ২০ তারিখে রায়গঞ্জে আসেন। সেদিনই রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লালার নমুনা পরীক্ষার জন্য গিয়েছিলেন। এদিন ওই শ্রমিকের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পজিটিভ রিপোর্টের খবর শুনতেই এদিন সন্ধ্যে ৭টা নাগাদ টোটো করে নিজেই চলে আসেন কোভিড হাসপাতলে। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও দুই সন্তান। বর্তমানে ওই শ্রমিক কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিন্দোল হাই মাদ্রাসার সহকারী কোয়ারান্টিন সেন্টারে।

এছাড়া 8 জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ জন আশাকর্মীও রয়েছেন। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিকের দাবি আতঙ্কের কিছু নেই সবাই সুস্থ রয়েছেন। বাসিন্দাদের বক্তব্য, লকডাউন শুরু হওয়ার পরে গত তিন মাসে ভিন রাজ্য থেকে জেলায় প্রায় ৪২ হাজার শ্রমিক ফিরেছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ শ্রমিক উপসর্গহীন হওয়ায় স্বাস্থ্যদপ্তর তাদের লালার পরীক্ষা করেনি। পাশাপাশি, আইসিএমআরের নিয়ম যুক্তি দেখিয়ে গত একমাস ধরে করোনা আক্রান্ত বহু বাসিন্দাকে কোভিড হাসপাতালে বদলে হোম কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ভিন রাজ্য থেকে ফেরা সব শ্রমিকের লালার পরীক্ষা ও তার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সরকারি কোয়ারান্টিনে রাখা উচিত ছিল। তাহলে রোগীর সংখ্যা এতটা বাড়ত না। এসব কারনেই এবারে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুশান্তবাবুর অবশ্য দাবি, আইসিএমআরের নিয়ম অনুযায়ী উপসর্গহীন বাসিন্দাদের পরীক্ষার কাজ বেশ কিছুদিন আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।