১২ হাজার পড়ুয়া নিয়ে হিমসিম খাচ্ছে ইসলামপুর কলেজ

162

অরুণ ঝা, ইসলামপুর : ইসলামপুর কলেজ ১২ হাজার পড়ুয়ার বোঝা নিয়ে হিমসিম খাচ্ছে। কলেজের ওপর থেকে এই বোঝা কমাতে নতুন কলেজ তৈরির কোন উদ্যোগ নেই।  ছাত্রদের রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করা  ও কলেজ পরিচালন সমিতি কবজাই করাই যেন রাজনৈতিক নেতাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। ফলে ইসলামপুরে উচ্চশিক্ষা কার্যত বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নবান্নের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দরবার করেও এ নিয়ে কোনও লাভ হয়নি। কলেজের শিক্ষক  ও এলাকার মানুষের অভিযোগ, গত কয়েক দশকে ইসলামপুরে উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে নেতা-মন্ত্রীদের কোনও মাথাব্যথা না থাকার কারণেই হাজার হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বর্তমান বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনও সাড়া দেননি। তবে প্রাক্তন বিধায়ক তথা ইসলামপুর কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল আরও একটি কলেজের প্রস্তাব পাঠানো আছে বলে দাবি করেছেন।

এলাকার শিক্ষাবিদ থেকে শুরু করে অভিভাবকদের বড় অংশই বলছেন, আসলে বাম আমল থেকেই ইসলামপুরে উচ্চশিক্ষা নিয়ে নেতা-মন্ত্রীদের তত্পরতা সেভাবে ছিল না। ছাত্র রাজনীতির নামে কলেজের দখল এবং কলেজ পরিচালন সমিতির উপর ছড়ি ঘোরানোই যেন হয়ে উঠেছিল একমাত্র কালচার। যার ফলস্বরূপ ইসলামপুর কলেজ টুকলির স্বর্গরাজ্য লোকমুখে প্রচার পেয়েছে। বিভিন্ন সময় আর্থিক অনিয়মের বিস্তর অভিযোগও কলেজকে ঘিরে উঠে এসেছিল। একটা সময় ইসলামপুর কলেজ গুন্ডামির আখড়া হয়ে ওঠে বলেও অভিযোগ। বাম আমলের পর বর্তমান শাসকদলের কোন লবির কবজায় কলেজ থাকবে তা নিয়ে বিস্তর রাজনৈতিক গোষ্ঠী সংঘর্ষের নজির রয়েছে। ছাত্র রাজনীতির নামে তোলাবাজির অভিযোগও ইসলামপুর কলেজের সুনামে কালিমা লেপন করেছে। পরিকাঠামোর অভাবে পরীক্ষার সময় একটি বেঞ্চে চার থেকে পাঁচজন পড়ুয়াকে যেমন বসানো হয়। তেমনি মেঝেতে বসেও পড়ুয়াদের পরীক্ষা দেওয়ার নজির রয়েছে। ইসলামপুর কলেজে নাম লেখালেই টুকলি করা যেন পড়ুয়াদের একাংশের জন্মগত অধিকার। প্রতিবাদ করলেও উপরতলার নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকা ছাত্রনেতাদের চোখরাঙানি উপরি পাওনা হিসেবে জুটবে।

- Advertisement -

বাম আমলে বিরোধীরা যেমন ইসলামপুর কলেজ নিয়ে মাথা ঘামানোর হিম্মত দেখাতে পারেনি, তেমনি বর্তমান আমলেও বিরোধীদের কলেজে মাথা গলাতে দেখা যায় না। এক সময় রাজ্যের মন্ত্রী করিম লবির কলেজে দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। পরে কানাইয়া লবি কলেজে সক্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে কানাইয়া কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি। পড়ুয়াদের বড় অংশই বলছেন, রাজ্য শিক্ষা দপ্তর কলেজের পরিকাঠামোগত সমস্যা এবং অতিরিক্ত পড়ুয়ার বোঝা নিয়ে সব জেনেও নীরব কেন? এলাকার নেতা-মন্ত্রীরাই বা এলাকার উচ্চশিক্ষার বেহাল দশা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসে রয়েছেন কেন? সমস্ত দলের ছাত্রনেতাদের এ নিয়ে কোনও আন্দোলন নেই কেন?

ইসলামপুর কলেজের টিচার ইনচার্জ কাজলরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, রাজ্যের অন্য জেলায় ব্লকের অনুপাতে কলেজের সংখ্যা বেশি। সেই তুলনায় উত্তর দিনাজপুর এবং ইসলামপুর অনেকাংশেই বঞ্চিত। যাঁরাই যখন কলেজের ক্ষমতায় ছিলেন তাঁদের তরফে আরও বেশি সক্রিয়তা থাকলে হয়তো এলাকার উচ্চশিক্ষার সমস্যা মেটান অনেকটাই সম্ভব হত। ১২ হাজার পড়ুয়ার বোঝা নিয়ে ইসলামপুর কলেজ যেমন পরিকাঠামোর সমস্যায় ভুগছে, তেমনি স্বাভাবিক পঠনপাঠনও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আমি নিজে নবান্নের বৈঠকে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সমস্যা বিস্তারিত জানিয়েছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। ইসলামপুরে আরও একটি নতুন কলেজ না হলে পড়ুয়াদের সমস্যা মিটবে না। কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল  বলেন, অতিরিক্ত পড়ুয়ার বোঝা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। ইতিপূর্বে আমরা একটি মহিলা কলেজ খোলার বিষয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। সম্ভবত সেটি হবে না। তবে জেনারেল ডিগ্রি কলেজ খোলা নিয়ে কথা হয়েছে। করোনার কারণে গোটা প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই শিক্ষা দপ্তরের কাছে আবার এই আর্জি জানানো হবে।