জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি, মে : জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার জেলা ও শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ এলাকায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজে রাজ্য সরকার চলতি আর্থিক বছরে ১২৮ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করেছে।

সবচেয়ে বেশি হিসাবে জলপাইগুড়ি সেচ ডিভিশনে ৪৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আলিপুরদুয়ার সেচ ডিভিশনে বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজে ২৬ কোটি ৮ লক্ষ টাকা খরচ হবে। কোচবিহার সেচ ডিভিশনে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের রূপায়ণে ২৯ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা ও শিলিগুড়ি সেচ ডিভিশনে ১৬টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের জন্য ২৯ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বরাদ্দের টাকায় যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে তিস্তা ও জলঢাকা, মানসাই, বালাসন সহ কয়েকটি নদীর জলোচ্ছ্বাস থেকে লোকালয় ও কৃষি বলয়কে রক্ষা করতে ৭৪টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প বাস্তবায়িত করা হবে। সময়মতো কাজগুলি শেষ করতে সেচ দপ্তর উত্তর-পূর্ব সেচ বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। ইতিমধ্যেই ৭৪টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরুও হয়েছে।

সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুটানে উৎপত্তি হওয়া নদীগুলির জলোচ্ছ্বাসে প্রতি বছর আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার সেচ ডিভিশনে বন্যা হয়। এই দুই ডিভিশনে ভাঙনের সমস্যাও তুলনামূলকভাবে বেশি। সংকোশ, রায়ডাক-১, রায়ডাক-২, জলঢাকা, বাসরা, সুক্তি, ডিমডিমা সহ বেশ কয়েকটি নদীর জল প্রতি বছরই নিয়ম করে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে ভাঙনের প্রকোপ বেশি। আলিপুরদুয়ারে নিউল্যান্ডস চা বাগানকে রায়ডাক নদীর ভাঙন থেকে বাঁচাতে ৩ কোটি ৩২ লক্ষ টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। মুজনাই নদীর ভাঙন থেকে মধ্য দেওগাঁও ও পশ্চিম দেওগাঁও এলাকার কৃষি বলয়কে বাঁচাতে সেচ দপ্তর ৩ কোটি ৮১ লক্ষ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কোচবিহার সেচ ডিভিশনের দক্ষিণ ফলিমারি এলাকাকে সংকোশ নদীর ভাঙন থেকে বাঁচাতে ২ কোটি টাকা, মাথাভাঙ্গার পারাডুবি এলাকাকে মানসাই নদীর ভাঙন থেকে বাঁচাতে ২ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা এবং সিতাইয়ের ঘোড়াডাঙ্গা এলাকাকে মানসাইয়ের ভাঙন থেকে বাঁচাতে ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প মঞ্জুর করা হয়েছে।

জলপাইগুড়ি সেচ ডিভিশনের মালবাজার এলাকার চ্যাংমারি অঞ্চলের প্রেমগঞ্জ এলাকাকে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে সেচ দপ্তর ১ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা এবং রংধামালি বাজার এলাকায় বন্যা নিযন্ত্রণে ৩ কোটি ৯২ লক্ষ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। শিলিগুড়ি সেচ ডিভিশনে বালাসনের জলোচ্ছ্বাস থেকে ত্রিহানা এলাকাকে বাঁচাতে দপ্তর ৩ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। মহানন্দার জলোচ্ছ্বাসের জেরে চম্পাসারিকে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে ৩ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।