পাথর বোঝাই লরি চাপা পড়ে ধূপগুড়িতে মৃত ১৩

1895

শুভাশিস বসাক, ধূপগুড়ি: পাথর বোঝাই লরি চাপা পড়ে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে মৃত্যু হল ১৩ জনের। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ জলঢাকা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৭-৮ জন। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ), ডেপুটি পুলিশ সুপার (অপরাধ), ধূপগুড়ি থানার আইসি ও র‍্যাফ ঘটনাস্থলে যায়। আহতদের ধূপগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে বেশ কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসক তানিয়া ঘোষ জানান, আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত কমপক্ষে ৭-৮ জন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে চারজন শিশু, সাতজন মহিলা, দুজন পুরুষ রয়েছেন। মৃত ও আহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদব বলেন, ‘মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনাগ্রস্ত তিনটি গাড়িই ভুল পথে চলছিল। লরিটিই সঠিক পথেই চলছিল। মোট ১৩-১৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে।’ এদিকে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন রাজ্যের যুব কল্যাণ মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রানীরহাটের দিক থেকে দুটি বরযাত্রী বোঝাই গাড়ি ধূপগুড়ির দিকে যাচ্ছিল। সেসময় একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি দুটির ওপর উলটে যায়। লরির নীচে চাপা পড়েন দুটি গাড়িতে থাকা বরযাত্রীরা। উদ্ধার কাজে দমকল, পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয়রাও হাত লাগান। প্রায় তিন-চার ঘণ্টা ধরে উদ্ধার কাজ চলেছে। বরযাত্রী বোঝাই গাড়িগুলির ওপর পাথর পড়ে থাকায় কাজে অনেকটাই অসুবিধা হয়।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা কুনাল রায় বলেন, ‘দুটি গাড়িতে বরযাত্রীরা রানীরহাটের দিক থেকে বিয়েবাড়িতে আসছিলেন। মাঝপথে লরিটি উলটে দুটি ছোটো গাড়ির ওপর পড়ে।’ একই কথা জানিয়েছেন মৃতের আত্মীয় পরমানন্দ রায়।

ধূপগুড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি গাড়ি লালস্কুলের দিকে যাচ্ছিল। প্রথম গাড়িটি ধাক্কা লেগে সরে যায় এবং বাকি দুটি গাড়ি পাথর বোঝাই লরির নীচে পড়ে। ঘটনায় ওই গাড়ি দুটির যাত্রী ও চালকের মৃত্যু হয়েছে। অপর গাড়িটির কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন।

এদিকে, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন বিধায়ক মিতালি রায় ও বিডিও শঙখদীপ দাস। অন্যদিকে, রাজ্যের যুব কল্যাণ মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস টেলিফোনে বিধায়ক মিতালি রায়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঘটনার ওপর নজর রাখছেন। তিনি ধূপগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।