অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ ১৩ মাসের শিশু কন্যার

412

মানিকগঞ্জ: ১৩ মাসের এক শিশুকন্যার পেটের জটিল রোগ নিয়ে বাড়ির সবাই উদ্বিগ্ন। অর্থের অভাবে মানিকগঞ্জের এক গরিব দম্পতি ওই শিশুর চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে পারছে না। অর্থের অভাবে মাঝ পথেই চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে। তার জন্য সবার কাছে সাহায্যপ্রার্থী ওই পরিবার। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন মানিকগঞ্জ বাজার সংলগ্ন অধিকারি পাড়া গ্রামে বাড়ি গোপাল অধিকারির। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি। কয়েক বছর আগে বিয়ে করেন তিনি। তাঁর বড় ছেলে বিক্রম অধিকারি মানিকগঞ্জ হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। দারিদ্রের মধ্যে ভালই চলছিল গোপালের সংসার। পুত্র সন্তানের পর ১৩ মাস আগে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হলে পরিবারের সবাই খুশি হন। শিশুটির নাম রাখা হয় মানবী অধিকারি। শিশুটির জন্ম হয়েছিল জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে। জন্মের দু’দিন পর থেকেই ওই শিশুর মধ্যে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে তার পরিবার। জন্মের পর শিশুটির পেট ক্রমশই ফুলতে থাকে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বাচ্চাটিকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একদিন রাখার পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির তেমন কিছুই হয়নি। সে সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। তারপর ওই অবস্থায় শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে আসে বিপিএল তালিকাভুক্ত পরিবারটি। বাড়িতে নিয়ে আসার পর এক মাস অতিক্রান্ত হলেও খাওয়া দাওয়া স্বাভাবিক থাকলেও শিশুটি মলত্যাগ করত না। হলদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে কৃত্রিম উপায়ে মল ত্যাগের ব্যবস্থা করা হয়। অবস্থার পরিবর্তন না হলে পুনরায় শিশুটিকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দশ দিন ভর্তি থেকে শিশুটির চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, এই রোগের চিকিৎসা এখানে সম্ভব নয়। জন্মের সময় থেকে শিশুটির লিভার থেকে মলদ্বার পর্যন্ত নালিটি অকেজো হয়ে রয়েছে। কলকাতায় নিয়ে গিয়ে এর অপারেশন করাতে হবে।

- Advertisement -

গত অক্টোবর মাসে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয় শিশুটিকে। সেখানে অপারেশন করে পেটের ডান দিকে একটি ফুটো করে মলত্যাগের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। চিকিৎসকের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, আগামী জানুয়ারি মাসে আরও একটি অপারেশন করতে হবে। সেসময় মলত্যাগের নালিটি তৈরি করে দেওয়া হবে ও সঙ্গে যন্ত্র বসিয়ে মলত্যাগের প্রেসার তৈরি করা হবে। এরজন্য খরচ হবে প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা। সামান্য টাকা পয়সা ছিল তা এখনকার চিকিৎসা করাতেই শেষ। নিজের ভাগে পৈতৃক যে দুই বিঘা জমি ছিল তা এক বিঘা জমি বিক্রি করতে হয়েছে। অন্য জমিটিও বন্ধক রেখে টাকা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী চিকিৎসা করাতে গেলে অর্থের প্রয়োজন। তাই টাকা নেই বলে নতুন বছরের শুরুতে বিনা চিকিৎসায় ওই ১৩ মাসের শিশুটিকে বাড়িতেই ফেলে রাখতে হবে। এদিকে ওই অংশ দিয়ে মলত্যাগ করতে গিয়ে লিভারের অংশটি ক্রমশ পেটের বাইরে বেড়িয়ে আসছে। পরবর্তী অপারেশন করার অর্থ জোগাড় করতে সাধারণ মানুষ সহ নেতা মন্ত্রীদের বাড়ি বাড়ি সাহায্য চেয়ে বেড়াচ্ছেন তার বাবা ও মা।

বাচ্চাটির মা প্রতিমা অধিকারি বলেন, ‘জন্মের পর আমার সন্তানের এমন কিছু হবে তা ভাবতেই পারিনি। বাড়িতে অভাব অনটন লেগেই রয়েছে। জানি না মেয়ের চিকিৎসা হবে কিনা। তাঁর স্বামী গোপাল অধিকারি বলেন, ‘আমি পেশায় রাজমিস্ত্রি কাজের শ্রমিক। উপার্জন যা হয় তা সংসার খরচই শেষ হয়ে যায়। এখন মেয়ের জীবন বাঁচাতে পরবর্তী দুটি অপারেশনের ও চিকিৎসার জন্য সবার কাছে আর্থিক সাহায্যপ্রার্থী আমি। অবশ্য এই গরীব পরিবারের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূলের বুথ কমিটির সভাপতি দেবব্রত রায় প্রধান। দেবব্রত রায় প্রধান বলেন, ‘শিশুটির চিকিৎসার সাহায্যের জন্য দলের জেলা কমিটির সভাপতি সহ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির নিকট আবেদন করা হয়েছে। এছাড়াও আরও অনেকের সাহায্যের দরকার। আশা করি কোনও সহৃদয় ব্যক্তি বা সংস্থা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবেন।‘