একই গ্রামে ১৩ করোনা আক্রান্তের হদিস

492

হরিশ্চন্দ্রপুর: একই গ্রামের ১৩ জন করোনা আক্রান্তের খবরে চাঞ্চল্য ছড়াল মালদার হরিশচন্দ্রপুরে। মঙ্গলবার হরিশচন্দ্রপুর ২ ব্লকের ভালুকা গ্রামের ১৩ জনের লালা নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট করোনা পজিটিভ এসেছে। তাদের মধ্যে আবার একই পরিবারের ৯ জন করোনা আক্রান্ত বলে জানাগিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে প্রশাসন উদ্বেগে রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে লালা নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী জেলার ৩০ জন নতুন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। তারমধ্যে ওই ব্লকেই আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ জন। আবার এদের মধ্যে শুধুমাত্র ভালুকাতেই ১৩ জন। এরফলে স্থানীয়রা এলাকায় টানা কড়া লকডাউনের দাবিতে সরব হয়েছেন।

- Advertisement -

এদিকে কারা ওই করোনা আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তাদের লালার নমুনা পরীক্ষার সংগ্রহ করা হবে বলে স্বাস্থ্যদপ্তর খবর। তবে নতুন করোনা আক্রান্তদের বেশিরভাগ জনই করোনা উপসর্গহীন ছিল। তাই প্রতত্যেককে হোম কোয়ারান্টিনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, স্থানীয় এক প্রধান শিক্ষকের কয়েকদিন আগে জ্বর, সর্দি, কাশি উপসর্গ দেখা দিলে তিনদিন আগে আড়াইডাঙ্গা ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লালার নমুনা দেন। সেই লালা নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বর্তমানে তিনি বাড়িতেই রয়েছেন। এরপর তার সংস্পর্শে আসা পরিবারের প্রত্যেকেরই লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আক্রান্ত ন’জনই ওই প্রধান শিক্ষকের পরিবারের। তাঁর স্ত্রী, ছেলে, ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, রয়েছেন, তাঁর চার বছরের ভাইঝিও করোনা আক্রান্ত।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি মাসের ৪ তারিখে ভালুকা পুলিশ ফাঁড়ির দুই এএসআই সহ ১২ জন সিভিক ভলান্টিয়ার একইদিনে করোনা আক্রান্ত হয়। তারা সম্প্রতি সুস্থ হয়ে অবশ্য কাজেও যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে এলাকায় গোষ্ঠী সংক্রমণ চলছে বলে বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশঙ্কা স্বাস্থ্য মহলের একাংশেরও। আর তা রুখতে ভালুকাবাজারে স্থানীয়ভাবে টানা কড়া লকডাউনের দাবি তুলেছেন বাসিন্দাদের একাংশ।

স্থানীয় বাসিন্দা নব কুমার সাহা, রাজেশ চৌধুরীরা বলেন, যা পরিস্থিতি তাতে এখানে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয়ভাবে কড়া লকডাউন জরুরি। পাশাপাশি মানুষকে সচেতন হওয়া দরকার। মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক বিধি নিষেধ মেনে চলা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য।

হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের বিএমওএইচ সাগর বসাক বলেন, উপসর্গ না থাকায় আক্রান্তদের বাড়িতে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের উপরে নজর রাখবেন।