অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে স্কুটারে ১৩০০ কিমি দূরে পরীক্ষাকেন্দ্রে গেলেন স্বামী

535

রায়পুর ও  ভুপাল,:  স্ত্রীর স্মৃতিতে একটা আস্ত পাহাড় কেটে রাস্তা বানিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন মাউন্টেন ম্যান দশরথ মাঝি। তাঁর অনুপ্রেরণায় খবরের শিরোনামে এলেন ঝাড়খণ্ডের ধনঞ্জয়কুমার মাঝি। মহামারি আবহে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনি হেমব্রমকে ডিপ্লোমা-ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন (ডিএলএড) পরীক্ষা দেওয়ানোর জন্য ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা থেকে স্কুটারে ১৩০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে পৌঁছোলেন তিনি। মাউন্টেন মাঝি স্ত্রীকে বাঁচাতে পারেননি। তবে তাঁর স্মৃতিতে রাস্তা বানিয়েছিলেন। ধনঞ্জয় স্ত্রীকে শিক্ষিকা করতে চান। তাঁর দৃঢ়তার কাছে হার মেনেছে দারিদ্র‌্য, এমনকি লকডাউনের প্রতিবন্ধকতাও। লকডাউনের জন্য বহু জায়গায় এখনও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। লকডাউনে কাজ হারিয়েছেন ধনঞ্জয়। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসায় পরোয়া করেননি আর্থিক অনটনকে। স্কুটারে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে তেল কিনেছেন স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে। ট্রেনের ভরসায় না থেকে ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ পেরিয়ে মধ্যপ্রদেশের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেছেন স্রেফ দুচাকায়।

এই দীর্ঘ পথ যাওয়া কিন্তু সুখের ছিল না। সোনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই অবস্থায় দীর্ঘপথ স্কুটারে যাওয়া যথেষ্ট ঝুঁকির ছিল। ভয়কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন স্বামী-স্ত্রী দুজনেই। সোনি জানিয়েছেন, প্রবল বৃষ্টিতে আশ্রয় নিতে হয়েছে গাছের তলায়। স্কুটারে একটানা যাওয়ার জন্য কোমর ও পিঠ টনটনিয়ে উঠেছে। ব্যথার জন্য নামতে হয়েছে মাঝে মাঝে। বেশ কিছুটা রাস্তা হেঁটেওছেন। ধনঞ্জয়ে কথায়, ভাগলপুর তো ভেসে গিয়েছে। ওখানে বৃষ্টির জন্য দুঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর সোনির কাছে কোনও কষ্টই তখন কষ্ট নয়।

- Advertisement -