ফের গাজোলে ১৪ করোনা আক্রান্তের হদিস

422

গাজোল: মালদার গাজোলে নতুন করে ১৪ জন করোনা আক্রান্তের হদিস মিলল। এদের মধ্যে একই পরিবারের রয়েছেন ৮ জন। তাদের মধ্যে ৮০ বছরের বৃদ্ধ, ৯ বছরের একটি শিশুও রয়েছে। অপর একটি পরিবারের ৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বাকি তিনজনের মধ্যে দুইজন শহর এলাকার এবং একজন গ্রামীণ এলাকার।

বর্তমানে গাজোল শহর এলাকায় নতুন করে যে সমস্ত করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে, তারা বেশিরভাগই একই পরিবারের। যার ফলে স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে গাজোলে। এদিকে নতুন করে একসঙ্গে অনেকের সংক্রমিত হওয়ার ঘটনায় প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে। সংক্রমিত এলাকাগুলোকে কনটেনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো, করোনা আক্রান্তদের প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি কনট্যাক্ট এ যারা এসেছিলেন তাদের লালার নমুনা সংগ্রহ করা হবে আগামী সোমবার এবং মঙ্গলবার।

- Advertisement -

এদিন নতুন করে যে তালিকা এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে , গাজোলের থানা রোড (আদর্শ পল্লী) এলাকার এক ওষুধ ব্যবসায়ী আগেই আক্রান্ত হয়েছিলেন। এছাড়াও এক কাপড় ব্যবসায়ীও আক্রান্ত হন। তাঁদের ভর্তি করা হয় মালদা মেডিকেল কলেজে। এরপর ওষুধ ব্যবসায়ীর সংস্পর্শে আসা পরিবারের লোকজনদের লালা নমুনা সংগ্রহ করা হয় গত বুধবার। গতকাল রাতে যে রিপোর্ট এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে ওই ব্যক্তির পরিবারের আটজন সদস্য সংক্রমিত হয়েছেন। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় প্রায় সমস্ত দোকানপাট। পুলিশের পক্ষ থেকে গোটা এলাকাকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

অপরদিকে গাজোলের নয়াপাড়া এলাকাতেও একই রিবারের ৩ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ওই ব্যবসায়ী পরিবারের কর্তা বেশ কিছুদিন ধরেই জ্বর সহ অন্যান্য উপসর্গ ভুগছিলেন। অবশেষে গত ২৮ জুলাই চিকিৎসার জন্য তাকে মালদা নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু তার আগেই মারা যান তিনি। জানা গিয়েছে, তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য পরিবারের কয়েকজন এবং তার দোকানের কয়েকজন ভ্যানচালক সব মিলিয়ে জনাসাতেক ব্যক্তি সাদুল্লাপুর মহাশ্মশানে গিয়ে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। কিন্তু মৃত ওই ব্যক্তির লালা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়নি। তবে তার পরিবারের লোকেদের লালা নমুনা পরীক্ষা করা হলে তিনজনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এর ফলে ওই এলাকাতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। পুলিশের পক্ষ থেকে ওই এলাকাকে কনটেইনমেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

মৃত ওই ব্যবসায়ী পরিবারের এলাকাতেই রয়েছে বিধায়ক দিপালী বিশ্বাসের বাড়ি। তিনি জানান, ঘটনার জেরে এলাকার লোকজন কিছুটা হলেও আতঙ্কে রয়েছে। এলাকাবাসীদের আমি বলেছি আতঙ্কে নয়, সতর্ক থাকুন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য দপ্তরকে তিনি জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা প্রত্যেক ব্যাক্তির লালা নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার জন্য। তবে তিনি নিজেও বেশ কিছু সাবধানতা অবলম্বন করছেন। এখন থেকে বেশ কিছুদিন বাড়ির মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবেন তিনি। আপাতত বাড়ির বাইরে বের হবেন না। বাড়ি থেকেই যাবতীয় কাজকর্ম পরিচালনা করবেন।

স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, গাজোল ব্লকে নিয়মিতভাবেই লালা সংগ্রহের কাজ চলছে। গতকাল ও গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে ৬২ জনের লালা নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত হাতিমারি হাসপাতালে লালা নমুনা সংগ্রহের কাজ চলবে। মঙ্গলবার লালা নমুনা সংগ্রহ করা হবে গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে। ওই দিন মৃত ব্যবসায়ীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া যারা যোগ দিয়েছিলেন, তাদেরও লালা নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এই কদিন তাদের প্রত্যেককে হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। নতুন করে যারা সংক্রমিত হয়েছেন তারা প্রত্যেকেই উপসর্গবিহীন। তবে তাদের মধ্যে একজন বৃদ্ধ রয়েছেন, স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তার উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। এদিন স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি মেডিকেল টিম গিয়ে তাকে পরীক্ষা করে এসেছেন। সকলকেই হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে বলা হয়েছে।