করোনাকে হারিয়ে বাড়ি ফিরলেন কোভিড হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট সহ ১৪

265

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: করোনাকে হারিয়ে সোমবার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন কোভিড হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট।  বেশকয়েক মাস আগে রায়গঞ্জ থানার কর্ণজোড়া ফাঁড়ির অন্তর্গত মিক্কিমেঘা নামে একটি বেসরকারি নার্সিংহোম কোভিড হাসপাতালের জন্য অধিগ্রহণ করে রাজ্য সরকার। কোভিড হাসপাতাল শুরুর পর থেকেই নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট বাপি বিশ্বাস, কোভিড হাসপাতাল সুপার চিকিৎসক দিলীপকুমার গুপ্তা, ফার্মাসিস্ট নুরজামান রহমান সেখানে কর্মরত ছিলেন। একের পর এক করোনা আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ করে বাড়ি ফেরানোর কাজ করেছেন তাঁরা।

৫৬৫ জন করোনা সংক্রামিত রোগীকে সুস্থ করে বাড়ি ফেরানোর পরেই সংক্রামিত হন কোভিড হাসপাতাল সুপার, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট ও ফার্মাসিস্ট। ডাক্তার-নার্সদের যাবতীয় দায়িত্ব সামলাতেন এঁরা। দিনকয়েক আগে করোনা সংক্রামিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনজন। তাঁদের মধ্যে নার্সিং সুপারেনটেনডেন্ট বাপি বিশ্বাস সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। এদিন সুস্থ হলেন কোভিড হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট। কোভিড হাসপাতাল সুপার চিকিৎসক দিলীপকুমার গুপ্তা ক্রমশই সুস্থ হয়ে উঠছেন। চলতি মাসের ৬ তারিখ তাঁকে ছুটি দেবে কোভিড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

সোমবার মোট ১৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ করে বাড়ি ফেরানো হয়। তাঁদের মধ্যে ৮ জন নার্স একজন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের এক্স-রে বিভাগে কর্মরত, একজন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দপ্তরের কর্মী। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে কর্মরত আটজন নার্স এদিন ক্যামেরার সামনে আসতে চাননি। তাদের বক্তব্য, রায়গঞ্জ শহরে বাড়ি ভাড়া করে থাকি। ছবি প্রকাশ্য়ে আসলে সামাজিক বয়কটের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই আমাদের ছবি তুলবেন না। ‌

এদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ফুলের তোড়া ও রাখি পরিয়ে কোভিডজয়ীদের সংবর্ধনা জানায় কোভিড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রাখি বন্ধন উৎসবের কারণে তাঁদের রাখি পরানোর পাশাপাশি পায়েস ও মাংস ভাত সহ এলাহি খাবার খাওয়ানো হয়। কোভিড হাসপাতালে নার্সিং সুপারেনটেনডেন্ট বাপি বিশ্বাস বলেন, এদিন ১৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। তাঁদের মধ্যে আমাদের কোভিড হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট রয়েছেন।

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সময় কোভিড হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট নুরজামান রহমান বলেন, ১৪ দিন কোয়ারান্টিনে থাকব। তারপর ফের কোভিড হাসপাতলে কাজে যোগ দিব। একের পর এক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরায় রীতিমতো উচ্ছ্বসিত জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা। তাঁদের বক্তব্য, চার মাসে কোভিড হাসপাতালে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় ৬০০ জন। যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের করোনার কারণে মৃত্যু হয়নি।

মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, ওই পাঁচজনের মধ্যে কেউ ক্যান্সার আক্রান্ত ছিলেন, কারোর কিডনির সমস্যা ছিল, কারোর হৃদযন্ত্রের সমস্যা ছিল।