এক দম্পতির ১৫টি ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব শিলিগুড়িতে, চলছে ড্রাগ কারবারও

876
প্রতীকী ছবি

শিলিগুড়ি : ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব, মধুচক্র থেকে একধাপ এগিয়ে ড্রাগের ব্যবসায় সিদ্ধহস্ত দম্পতিরই শিলিগুড়িতে প্রায় ১৫টি ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব রয়েছে। সূত্রের খবর, এই দম্পতিই শহরে ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবের কিংপিন। তাদের কথায় শহরের অধিকাংশ ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব চলে। শহরে এই ক্লাবগুলির দুটি পৃথক সিন্ডিকেট রয়েছে। প্রতিটি সিন্ডিকেটের থেকে মিলিত অর্থ হেভিওয়েদের পকেটে যাচ্ছে। ফলে ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব নিয়ে প্রশাসনের উচ্চবাচ্য নেই। এই সুযোগে কর ফাঁকি দিয়ে রমরমা ব্যবসা চলছে। সূত্রের খবর, এর আগে শহরের যে যে ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবে পুলিশের অভিযান হয়েছে সেখানকার একটি ক্লাবে ওই দম্পতির শেয়ার রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শিলিগুড়ির নীলনলিনী বিদ্যামন্দিরের কাছে একটি আবাসনে ওই দম্পতি থাকে। এছাড়াও তাদের সংহতি মোড়, খেলাঘর মোড় এবং প্রধাননগর এলাকায় আস্তানা রয়েছে। ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব চালানোর পাশাপাশি নেশার কারবারেও ওই দম্পতি সিদ্ধহস্ত। তবে ড্রাগ কারবারিদের সঙ্গে ওই ব্যক্তির ভালো যোগাযোগ রয়েছে। মূলত তার অঙ্গুলিহেলনেই শহরে ব্রাউন সুগারের মতো ড্রাগ পাচারের কারবার চলছে। ওই ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর নামে সমস্ত ব্যবসা চালাচ্ছে। ওই ব্যক্তির স্ত্রী ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবের পুরো ব্যবসার দেখাশোনার দাযিত্বে রয়েছে। কোথাও কারও সঙ্গে ডিল বা রফা করতে গেলে ওই মহিলা এগিয়ে আসে। পুলিশের একটা সূত্র জানাচ্ছে, ওই মহিলার স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও রয়েছে। পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়ি এলাকায় তাদের বেশ কিছু বেআইনি ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব রয়েছে। সূত্রের খবর, শহরের সবচেয়ে বড় ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব রয়েছে ওই দম্পতির। সিন্ডিকেটের মাথা ওই দম্পতির তত্ত্বাবধানে শহরের বড় ধরনের ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবগুলি চলে। এর বাইরে আশ্রমপাড়ায় ওই ব্যক্তির বোনেরও ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব রয়েছে। ওই চত্বরে পাড়ায় পাড়ায় নিজেদের ভুয়ো কলসেন্টার, ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব চালাচ্ছে দম্পতি। এর বাইরে ছোট ছোট ক্লাবগুলিকে নিয়ে একটি পৃথক সিন্ডিকেট রয়েছে। কোনও রকম বাধা ছাড়া ব্যবসা চালাতে সেই সিন্ডিকেটের থেকেও আবার ছোট ছোট অঙ্কের টাকা একত্রিত করে শহরের বিভিন্ন মহলে পাঠানো হচ্ছে। ফলে জেনেও কেউ কোনও রকম ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই দম্পতি ছাড়া বাকি যারা রয়েছে তাদের প্রত্যেকের দুই থেকে তিনটি করে ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব রয়েছে। শিলিগুড়ির লেকটাউন এলাকায় এক ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবের মালিকের বাড়ি রয়েছে। সূত্রের খবর, ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব চালানোর জন্যে শহরে তার তিনটি বাড়িভাড়া নেওয়া রয়েছে। সে নিজেও ভাড়াবাড়িতে থাকে। ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবের পাশাপাশি তার গাড়িরও ব্যবসা রয়েছে। এই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও থানায় অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যে গোটা বিষয়টি নিয়ে শহরজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবগুলির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার দাবি উঠেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এদিনও শিলিগুড়ির মহকুমা শাসকের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি এসএমএসেরও জবাব দেননি। শিলিগুড়ির ডিসি (জোন-২) কূঁয়রভূষণ সিং বলেছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

- Advertisement -