পুলিশি অভিযানে ১৬টি তাজা বোমা উদ্ধার

বর্ধমান: হেপাজতে নেওয়া অপরাধীর কাছ থেকে খোঁজ পেয়ে অভিযান চালাতেই উদ্ধার হল ১৬টি তাজা বোমা। পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থানার পুলিশ সোমবার বকুলিয়া গ্রামের বাঞ্ছা হাজরা নামে এক ব্যক্তির গোয়ালঘরে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই এই বোমা উদ্ধার হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও মঙ্গলকোটের তৃণমূল ও বিজেপি নেতৃত্ব একে অপরকে দায়ী করেছে। পুলিশ অবশ্য বোমা উদ্ধারের অভিযান আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাজনৈতিক সংঘর্ষে মাঝে মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মঙ্গলকোট। পাল্লা দিয়ে চলছে বোমাবাজি। এলাকার দখলদারি নিয়ে ১৩ জুলাই তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষ এবং বোমাবাজির ঘটনা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মঙ্গলকোটের মাজিগ্রাম পঞ্চায়েতের বকুলিয়া গ্রাম। সেই সংঘর্ষে পাঁচ জন জখম হন। চিকিৎসার জন্য তাদের ভর্তি করা হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত ১৩ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

- Advertisement -

ঘটনার পরদিন তাদের কাটোয়া মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ ৪ জন আপরাধীকে নিজেদের হেপাজতে নেয়। ওই চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে সংঘর্ষ ও বোমাবাজির ঘটনায় বকুলিয়া এলাকার প্রণব ধীবর ও সোমনাথ ধীবর জড়িত ছিল। তাদের গ্রেপ্তার করে রবিবার পুলিশ জানতে পারে বকুলিয়া গ্রামে বাঞ্ছা হাজরার গোয়ালঘরে মজুত রয়েছে ১৬টি তাজা বোমা। এদিন পুলিশ সেই বোমা উদ্ধার করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালালে আরও বোমার হদিশ মিলতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

বোমা উদ্ধারের বিষয়ে মঙ্গলকোট ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অপূর্ব চৌধুরী বলেন, বিজেপির কাজই হল বোমা-গুলি নিয়ে এলাকা উত্তপ্ত করা। আমাদের প্রশাসনের ওপর আস্থা আছে। পুলিশ অভিযান চালালে বকুলিয়া গ্রাম থেকে আরও অনেক কিছু উদ্ধার করতে পারবে। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ অস্বীকার করে মঙ্গলকোটের বিজেপি নেতা রানাপ্রসাদ গোস্বামী বলেন, বকুলিয়া গ্রামে যা  ঘটেছে তা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের। সংঘর্ষ কিংবা বোমা উদ্ধার কোনওটার সঙ্গেই বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।