কৃষিঋণে বরাদ্দ সাড়ে ১৬ লক্ষ কোটি

137

নযাদিল্লি: একদিকে করোনা-লকডাউনের ধাক্কা সামলানো, অন্যদিকে কৃষকদের ক্ষোভ প্রশমন-এই দুটি বিষয় নতুন বছরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একুশের বাজেটে স্বাভাবিকভাবে এই দুই ইস্যু বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় আত্মনির্ভর ভারতের কথা বলতে গিয়ে কৃষিক্ষেত্রে সংস্কারের গুরুত্বের কথা জানান সীতারামন। তবে এর ফলে কৃষকদের যে ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে না সে আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমণ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতত্বাধীন সরকার যে আত্মনির্ভর প্রকল্প চালু করেছে তা সামগ্রিকভাবে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ১৩ শতাংশ। আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে তৈরি হওয়া এই বাজেটে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে সরকার দায়বদ্ধ। কৃষিতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন সীতারামন। এ প্রসঙ্গে পূর্ববর্তী ইউপিএ সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের তুলনা টানেন তিনি।

- Advertisement -

অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১২-১৩-তে গম কিনতে ৩৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। চলতি অর্থবর্ষে তা বাড়িয়ে ৭৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। একইভাবে ধানের সহায়ক মূল্য বাবদ ২০১৩-১৪ সালে ৬৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। ২০২০-২১-এ সেই খরচ বেড়ে ১ লক্ষ ৭২ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। এবছরের বাজেটকে কৃষকদের পক্ষে প্রো-অ্যাকটিভ বলে দাবি করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে কৃষকদের ৭৫.৬ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৪৩.৬ লক্ষ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। কৃষকদের ঋণ বাবদ সাড়ে ১৬ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন সীতারামন। মৎস্যচাষিরাও এই ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের জন্য বন্দর নির্মাণ করা হবে। এজন্য টাকার জোগান দেবে কেন্দ্র। কৃষি ও মৎস্যচাষে পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে বহু কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও এদিন দাবি করেছেন সীতারামন।