মেডিকেলে কাজ হারানোর শঙ্কায় ১৭৭ কর্মী

138

হরষিত সিংহ, মালদা : নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের জেরে জেরবার মালদা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। কোনও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ১৭৭ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। রোগীকল্যাণ সমিতি থেকে ওই কর্মীদের জন্য মাসে ১২ লক্ষ টাকা খরচ করা হচ্ছিল। ফলে সমিতির আর্থিক ভাঁড়ারে টান পড়েছে। অবশেষে ওই অস্থায়ী কর্মীদের ছাঁটাইয়ে সিদ্ধান্ত নিল মালদা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। জুলাই মাসের পর থেকে ওই কর্মীদের বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যদিও সমস্ত বিষয়টি নির্ভর করছে স্বাস্থ্যভবনের ওপর। কারণ, মালদা মেডিকেল থেকে বেশ কিছুদিন আগে ওই অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণের জন্য ই-ফাইল পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্যভবনে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সদর্থক নির্দেশ এসে পৌঁছায়নি মালদা মেডিকেলে।

- Advertisement -

মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭৭ জন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। এঁদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যাঁরা মেডিকেল কলেজ তৈরির আগে থেকেই অস্থায়ী পদে রয়েছেন। বেশ কয়েকজনকে ২০১১ সালে এবং ২০১৬ সালে বাকিদের অস্থায়ী পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। এই কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও এঁদের স্থায়ী পদে নিয়োগের কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর তাঁদের নিয়মবহির্ভূত ভাবে রোগীকল্যাণ সমিতির তহবিল থেকে বেতন দেওয়া হচ্ছে।

মেডিকেল সূত্রে জানা গিয়েছে, রোগীকল্যাণ সমিতির যে তহবিল রয়েছে, সেখান থেকে হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন সহ চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে খরচ করা হয়। কিন্তু সেই সময় মালদা মেডিকেলের যাঁরা কর্তা, আধিকারিক ছিলেন, তাঁরা নিয়ম না মেনেই এই তহবিল থেকে অস্থায়ী কর্মীদের বেতন দিয়ে এসেছেন। এর জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা খরচ হয়।

এই অবস্থায় গত এপ্রিল মাসেই অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কর্মীদের কথা চিন্তা করে বর্তমানের মেডিকেলের কর্তারা তাঁদের স্থায়ী পদে নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য ভবনে ই-ফাইল পাঠিয়ে দেন। পাশাপাশি চার মাস বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই মতো জুলাই মাসেই শেষ বেতন পাবেন মেডিকেলের অস্থায়ী কর্মীরা। এদিকে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে কোনও নির্দেশিকা এসে পৌঁছায়নি মালদা মেডিকেলে। মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি পূরঞ্জয় সাহা বলেন, কর্মীদের স্থায়ীকরণের জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে ই-ফাইল পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনও স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষে কোনও নির্দেশিকা আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে অপারেশন থিয়েটার, বহির্বিভাগ সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন ওই অস্থায়ী কর্মীরা। আগামী মাস থেকে মালদা মেডিকেলের অস্থায়ী কর্মীরা কাজ হারানোর আশঙ্কা করছেন। ওই অস্থায়ী কর্মীদের দাবি, তাঁরা একাধিকবার মেডিকেলের কর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। কাজের দাবিকে ঘিরে বিক্ষোভ পর্যন্ত দেখান। কিন্তু মেডিকেলের কর্তারা পরিষ্কার জানিয়ে দেন তাঁদের হাতে আর কিছুই নেই। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পজেটিভ কোনও নির্দেশিকা আসলে তবেই অস্থায়ী কর্মীদের কাজ থাকবে। তবে মেডিকেলের কর্তারা জানান, আমরা যথাযথ সম্ভব চেষ্টা করছি।