জনসভার জন্য ৩০ হাজার মানুষ করোনা আক্রান্ত, ট্রাম্পকে দোষী ঘোষণা গবেষণার

217

ওয়াশিংটন: ট্রাম্পের ভোট প্রচারে আয়োজিত জনসভার কারণে আমেরিকায় ৩০ হাজার মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭০০ জনের। এমনই বিস্ফোরক দাবি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণাপত্রের। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধীদেরপক্ষ থেকে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, নিজের জেদ মেটাতে এভাবে দিনের পর দিন সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন ট্রাম্প। কে এর হিসাব দেবে? আর কত আসন শূন্য হবে ট্রাম্পের কারণে?

গবেষকরা চলতি বছরের জুন মাসের ২০ থেকে সেপ্টেম্বর মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত ট্রাম্পের মোট ১৮টি প্রচার সভার উপরে গবেষণা চালিয়েছিলেন। তাঁরা এই সভাগুলি থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। যে সমস্ত প্রদেশে জনসভাগুলি হয়েছিল, সেখানকার ট্রাম্পের সভার আগে–পরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বিচার করে এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও ট্রাম্পের ১৮টি জনসভার মধ্যে মধ্যে তিনটি ছিল ইনডোর মিটিং ছিল। স্ট্যান্ডফোর্ডের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক বি ডগলাস জানিয়েছেন, ‘ট্রাম্পের একাধিক প্রচারসভার কারণে মাশুল গুণতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।’‌

- Advertisement -

দেশে যখন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হু হু করে বাড়াছে তখন নির্বাচনী সভা করেছেন ট্রাম্প। তাঁর সভায় মাস্ক ছাড়াই বহু মানুষ অংশ গ্রহণ করেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই সেই নির্বাচনী জনসভা থেকে যে করোনা ভাইরাস ছড়ায়নি তা বলা হাস্যকর। এমনকী, ট্রাটম্প নিজেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তারপেও তিনি লাগাতার জনসভা করেছেন। এরফলে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ট্রাম্পকে। তাঁর উদাসীন মনোভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। বিরোধীরা তাঁর উদাসীন মনোভাব নিয়ে বার বার আক্রমণ শানিয়েছেন। এ বার সেই বিষয়টি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সমীক্ষায় প্রতিষ্ঠিত হল।

যদিও এই রিপোর্টের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের প্রচারদলের মুখপাত্র কোর্টনি পারেল্লা বলেছেন, আমেরিকার সংবিধান অনুসারে দেশের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য শোনার অধিকার সাধারণ মানুষের আছে। কোনও প্রশ্নেই সেটা রদ করা যায় না। আমরা আমাদের প্রচার সভাগুলির আগে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছি। যাঁরা আসছেন তাঁদের দেহের তাপমাত্রা মাপা হয়েছে, মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, প্রচুর পরিমাণে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিলি করা হয়েছে, আমাদের দিক থেকে কোনও ত্রুটি আমরা রাখিনি।’‌