দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রবিবার প্রকাশ্যে আসে। হাসপাতালের এই ঘটনায় নিউটাউনশিপ থানার পুলিশ এদিন দুজনকে গ্রেপ্তার করল। তাঁদের নাম সুবীর পাল ও পরেশনাথ পাল।

রবিবার দুজনকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের জামিন নাকচ করে ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। হাসপাতালের তরফে অভিযোগ দায়ের করার পর হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয় দুজনকে। এরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদেরকে গ্রেপ্তার করে নিউটাউনশিপ থানার পুলিশ।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, শুক্রবার গভীর রাতে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয় কোকওভেন থানার সগরভাঙ্গা কলোনির ডি ব্লকের বাসিন্দা বছর ৪২-এর প্রবীর পাল। শনিবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের গাফিলতিতে ও ভুল ইনজেকশন দেওয়ায় মৃত্যু হয়েছে প্রবীরবাবুর।

এই অভিযোগ তুলে হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স, এক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপরে চড়াও হয়ে মারধর করেন প্রবীরবাবুর পরিবারের লোকজনেরা। মারধর করা হয় এক নিরাপত্তারক্ষীকেও। এরপর নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে নার্সরা হাসপাতালে কর্মবিরতি শুরু করে দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় কর্মবিরতি আন্দোলন।

এরই মধ্যে ঘটে একটি অমানবিক ঘটনা। অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা এক ভবঘুরে তরুণীকে ভর্তি না করিয়ে হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, আন্দোলন করা নার্সরা তাঁকে ভর্তি করতে চায়নি। এরপর সিটি সেন্টারে একটি সরকারি ভবনের সামনে ওই তরুণী সন্তানের জন্ম দেন। সেই খবর দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক অনির্বাণ কোলে জানতে পারেন। তিনি নিজে অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে মা ও সদ্যজাতকে দুর্গাপুর মহুকুমা হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।