রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তেজনা ঘোকসাডাঙ্গায়, আহত ২ বিজেপি কর্মী

74

ঘোকসাডাঙ্গা: আজ, শনিবার থেকে রাজ্যের ৩০টি বিধানসভা আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবরও মিলেছে। এরই মাঝে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের উনিশবিশা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ঘটনায় জখম হয়েছেন দুই বিজেপি কর্মী। যদিও ঘটনায় একে অপরের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলছে বিজেপি ও তৃণমূল। ইতিমধ্যে দু’পক্ষই ঘোকসাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

বিজেপির অভিযোগ, এদিন মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের উনিশবিশা গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়ন্তীরহাট সংলগ্ন এলাকায় বিজেপির মাথাভাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী সুশীল বর্মনের সমর্থনে প্রচারে বের হন বেশ কয়েকজন বিজেপির নেতা-কর্মী। দলীয় পতাকা, পোস্টার লাগানো সহ প্রচারের সময় তাঁদের বাধা দেয় কয়েকজন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী। এমনকি, দলীয় নেতা-কর্মীদের বাঁশ, লোহার রড, লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও সেখান থেকে কোনওক্রমে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন তাঁরা। ঘটনায় সুমন্ত মিত্র (৪২) ও মৃণালকান্তি ভৌমিক (৪৩) নামে দুই বিজেপি কর্মী জখম হন। তাঁদের উদ্ধার করে ঘোকসাডাঙ্গা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়েই ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জখম কর্মীদের দেখতে যান বিজেপি প্রার্থী সুশীল বর্মন।

- Advertisement -

বিজেপি নেতা তথা প্রার্থী সুশীল বর্মন বলেন, ‘খেলা হবে, খেলা হবে, এটাই কি তৃণমূলের খেলা। ওরাও প্রচার করুক, আমরাও প্রচার করব। মানুষ ভোট দিয়ে জয়ী করবেন। ওরা ভোটে জিততে পারবে না বলেই আমাদের প্রচারে বাধা দিচ্ছে। আমাদের দুই কর্মী জখম হয়েছেন। আমরা গোটা বিষয়টি ঘোকসাডাঙ্গা থানায় লিখতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছি। পুলিশ প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। তা না হলে আমরাও কিন্তু ছেড়ে কথা বলব না।’ এই ঘটনার পরই বিভিন্ন এলাকার বিজেপির নেতা-কর্মীরা থানার সামনে জমায়েত হতে শুরু করেন। ঘটনার প্রতিবাদে জয়ন্তীর হাটে মিছিল বের করে বিজেপি। পরে অবশ্য বিজেপি নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এদিকে, এই ঘটনায় অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল নেতা মাধব বর্মনের অভিযোগ, উনিশবিশা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে বিজেপির তরফে পোস্টার, দলীয় পতাকা লাগাতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। আর তা নিয়েই দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বাধে। সেখানেই মহিলাদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূল নেতা বলেন, ‘এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে বিজেপি। আমরাও গোটা ঘটনা জানিয়ে ঘোকসাডাঙ্গা থানায় লিখত অভিযোগ দায়ের করেছি।’ অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ঘোকসাডাঙ্গা থানার পুলিশ।