জলপাইগুড়ি, ১৫ মার্চঃ জলপাইগুড়ি শহরের সেতুর সমস্যাই এবার ভোটের ইশ্যু করতে চলেছে বিরোধীরা। অপরদিকে, করলা নদীর ওপর সদ্য কাজ শুরু হওয়া সেতুকে হাতিয়ার করে উন্নযনের পালটা প্রচার চালাবে শাসকদল। সেতু নিয়ে প্রচার-পালটা প্রচারে এবার জমজমাট হতে চলেছে শহরের ভোটের বাজার।

প্রায ১০ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে জলপাইগুড়ি শহরের রবীন্দ্র ভবন লাগোয়া করলা নদীর ওপর সেতুটি। বাম আমলে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ) ওই সেতু তৈরির কাজ শুরু করে। বছর দুয়েক আগে এসজেডিএ সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করলেও সেতুর সংযোগকারী রাস্তা আজও তৈরি হয়নি। যেকারণে এখনও ওই সেতু দিয়ে যাতায়াত করা যাচ্ছে না। জলপাইগুড়ি শহরের যানজট কাটাতে সেই সময় এই সেতুটি তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংযোগকারী রাস্তার অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বানানো ওই সেতুটি। আর শহরের যানজটও সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে।

অপরদিকে, দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল সেতু হিসেবে পরিচিত ছিল সুনীতিবালা সদর বালিকা বিদ্যালয়ে সামনের সেতুটি। সম্প্রতি পুরোনো সেতু ভেঙে সেখানে নতুন সেতু তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে পুরোনো সেতুটি ভেঙে ফেলেছে জলপাইগুড়ি পুরসভা। সেই জাযগায় নতুন সেতু তৈরি করছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। লোকসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগেই নতুন সেতুর শিলান্যাস করেছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। কিন্তু সেখানেও রয়ে গিয়েছে সমস্যা। সেতু ভাঙার আগে জানানো হয়েছিল, ওই সেতুর পাশেই হেঁটে পারাপার হওয়ার জন্য অস্থায়ী সেতু তৈরি করে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই অস্থায়ী সেতু তৈরির কাজ আজও শুরু হয়নি। নির্বাচনি আচরণবিধি চালু হওয়ার পরে অস্থায়ী সেতু তৈরির কাজ শুরু করা যাবে কিনা তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। কারণ ওই সেতুর জন্য এখনও কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়নি।

শহরে সেতু নিয়ে এই সমস্যাগুলিকে সামনে রেখে ভোট প্রচারে নামতে চলেছে বিরোধীরা। জলপাইগুড়ি পুরসভার কংগ্রেস কাউন্সিলার অম্লান মুন্সী বলেন, শহরে যানজট কাটানোর জন্য বিভিন্ন সময় অবাস্তব কিছু পরিকল্পনা করা হয়ে থাকে। একসময় সমস্যা মেটানোর জন্য রবীন্দ্র ভবনের সামনে নতুন সেতু তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেটির বেশিরভাগ কাজই সম্পন্ন। কেবলমাত্র দুপাশের সংযোগকারী একটা রাস্তা তৈরি করে দিলেই সেতু ব্যবহার করা যায়। কিন্তু সেই কাজটা কেউই করছে না। উলটে আরও একটা নতুন সেতুর কাজ শুরু হযে গেল। আমরা ভোটের প্রচারে সেতুর এই সমস্যার কথা তুলে ধরব মানুষের কাছে।

একই সুরে সিপিএম কাউন্সিলার প্রদীপ দে বলেন, দুর্বল সেতু ভেঙে নতুন সেতু হচ্ছে, এটা শহরের বাসিন্দাদের জন্য ভালো। কিন্তু সবার আগে দরকার ছিল রবীন্দ্র ভবনের সামনে সেতুর কাজ সম্পূর্ণ করে সেটিকে চালু করা। অপর সেতুটি নিয়ে তাঁর মত, ওই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি ভেঙে ফেলায় খুবই সমস্যায পড়ছেন শহরের একপ্রান্তের বাসিন্দারা। নির্মীয়মাণ সেতুর পাশে একটি অস্থায়ী সেতু তৈরির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেটিও হয়নি। কাজেই শহরে এই বড়ো সমস্যা ভোটের ইশ্যু অবশ্যই হবে। অন্যদিকে, বিজেপির টাউন মণ্ডল সভাপতি জীবেশ দাস বলেন, শহরের যানজট অবশ্যই ভোটের একটি ইশ্যু। কেবল সেতুই নয়, শহরজুড়ে অপরিকল্পিতভাবে এই রকম অনেক কাজই হচ্ছে। আমরা মনে করি এগুলি সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষ এর জবাব দেবে।

বিরোধীদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল সন্দীপ মাহাতো বলেন, রবীন্দ্র ভবনের সেতুটির অর্ধসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য নতুন করে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, বেহাল সেতুটি থাকলে যেকোনো সময় বড়ো দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তাই সেটিকে দ্রুত ভেঙে ফেলে তার জাযগায় নতুন সেতু তৈরি করা হচ্ছে মানুষের স্বার্থে। সেতু ছাড়াও শহরজুড়ে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে সরকার। সেগুলি আমরা এবার ভোটের প্রচারে তুলে ধরব।