বন্ধ স্কুল, পারিবারিক পেশায় খুদেরা

188

হলদিবাড়ি: অনেকদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে স্কুল। ফলে আপাতত স্কুলে যাওয়ারও কোন ঝক্কি নেই। অনলাইন ক্লাসেরও বালাই নেই। কারণ ওদের বাবা-মায়ের স্মার্টফোন নেই। তাই সময় কাটাতে সীমান্তবর্তী এলাকার স্কুলের পড়ুয়াদের একাংশ খেলাধুলোয় মন দিলেও বাকি একটা বড় অংশই কার্যত শিশু শ্রমিকের ভূমিকা নিয়েছে। উপার্জনের আশায় বা বাড়ির বড়দের সাহায্য করতে পড়া ছেড়ে অনেকেই কর্মমুখী হচ্ছে। পারিবারিক পেশাতে শামিল হচ্ছে পড়ুয়ারাও। অভিভাবকরাও জেনে শুনেই বাড়ির খুদে পড়ুয়াদের কাজ করতে ছেড়ে দিচ্ছেন। হলদিবাড়ি ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী খালপাড়া, ফিরিঙ্গির ডাঙ্গা, ডাঙ্গাপাড়া, হেমকুমারী সহ নানা এলাকায় গেলেই এখন হামেশাই এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে।

করোনা পরিস্থিতির জেরে বর্তমানে স্কুল বন্ধ। আবার কবে স্কুল খুলবে তা নিশ্চিতভাবে কেউই বলতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে বই ছেড়ে পারিবারিক পেশা ঘানির তেল উৎপাদনের কাজ করতে দেখা যাচ্ছে স্কুল পড়ুয়া দুই সহোদরকে। প্রতিদিন কাকভোরে উঠে গোরু পিটিয়ে ঘানি ঘুরিয়ে খাঁটি সরিষা তেল উৎপাদন করছে। কোচবিহার জেলার দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন সীমান্তবর্তী খালপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমিনুল হোসেন। তাঁর দুই পুত্র রাসেল হোসেন ও রহিম হোসেন। রাসেল হোসেন সাউথ বড় হলদিবাড়ি জুনিয়র হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। রহিম হোসেন একই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। বর্তমানে স্কুল বন্ধ থাকায় স্বেচ্ছায় নিত্যদিন পারিবারিক পেশার কাজ করে উপার্জন করে সংসারে সাহায্য করছে তাঁরা। আমিনুল হোসেন বলেন, আধুনিক উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতির বাড়বাড়ন্তে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য কলুর ঘানি। সংসারের বাড়তি আয়ের উদ্দেশ্যে তিন পুরুষের ঐতিহ্য এই পেশাকে আজও আকড়ে ধরে রেখেছি। ঠাণ্ডা পড়তেই কদর বাড়ে খাঁটি ঘানির সরিষা তেলের। এরজন্য সকাল হতেই বাড়ির সামনে হাজির হচ্ছে ক্রেতারা।

- Advertisement -

পড়ুয়া রাসেল হোসেন বলে, অনেকদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে আমাদের স্কুল। ফলে স্কুলে যাওয়া ও বই পড়ার তেমন কোনও চাপ নেই। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় নেটওয়ার্কের সমস্যা। তাই অনলাইন ক্লাসও করতে হয় না। তাই ঘানির গোরু পিটিয়ে সরিষার তেল উৎপাদনের কাজ করি। প্রতিদিন দুই ভাই মিলে পাঁচ কেজি সরিষা ঘানিতে পিষে তেল বের করি। সময় লাগে প্রায় ছয় ঘণ্টা। ভোর থেকে কাজ শুরু করি। এক কেজি সরিষা থেকে ২৫০ গ্রাম খাঁটি সরিষার তেল পাওয়া যায়। এক লিটার খাঁটি সরিষা তেল ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তেল বিক্রি করে যা টাকা আসে মায়ের হাতে তুলে দেই।