ফের করোনার থাবা পলাশবাড়িতে, বন্ধ দোকানপাট

254

সুভাষ বর্মন, পলাশবাড়ি: ফের করোনার থাবা আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পলাশবাড়িতে। দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ারের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, পলাশবাড়ির শিলবাড়িহাটের পাশেই বাড়ি দুই সিভিক ভলান্টিয়ারের। তাঁরা সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির অধীন কর্মরত। স্বাস্থ্য দপ্তর গত ২৪ জুলাই পুলিশ ফাঁড়ির প্রত্যেকের লালার নমুনা সংগ্রহ করে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভিআরডিএল-এ পাঠায়। সোমবার রাতে বাকিদের রিপোর্ট নেগেটভ আসলেও পলাশবাড়ির দুই সিভিক ভলান্টিয়ারের রিপোর্ট পজিটিভ আসায় পুলিশ মহল ও এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে করোনায় আক্রান্ত দুই সিভিক ভলান্টিয়ারের কোনও উপসর্গ নেই বলে জানা গিয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে গতকাল রাতেই তাঁদের দু’জনকে শিলতোর্ষার সেফ হাউসে ভরতি করা হয়।

- Advertisement -

এদিকে লালার নমুনা দেওয়ার পরও দুই সিভিক ভলান্টিয়ার ডিউটি করার পাশাপাশি এলাকায় ঘোরাফেরা করেছেন বলে জানা গিয়েছে। শিলবাড়িহাটের একাংশ ব্যবসায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, জনপ্রতিনিধিদেরও সংস্পর্শে আসেন তাঁরা। এই নিয়ে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০ জনেরও বেশি মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন তাঁরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিলবাড়িহাটের দোকান বন্ধ রাখা হয়। ব্যবসায়ীরা নিজে থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউন শুরু করেছেন। তবে এই নিয়ে একাংশ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্বে অভিযোগ তুলেছেন শিলবাড়িহাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক গোবিন্দ বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘এর আগে বেশ কয়েকবার ব্যবসায়ী সমিতি থেকে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরোধীতায় তখন তা সম্ভব হয়নি। এখন গোষ্ঠী সংক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাই ব্যবসায়ীরা নিজে থেকেই শাটডাউন করেছেন।’

এদিকে দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ারের আরটিপিসিআর রিপোর্ট পজিটিভ আসায় পলাশবাড়ির কিছু এলাকা কনটেনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করতে চলেছে প্রশাসন। এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ার-১-এর বিএমওএইচ ডাঃ ভাস্কর সেন বলেন, ‘ওই দুই সিভিক ভলান্টিয়ারের লালার নমুনা নেওয়া হয় ২৪ জুলাই। সোমবার রাতে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাঁরা উপসর্গহীন। দু’জনকেই শিলতোর্ষার সেফ হাউসে রাখা হয়েছে। এই দু’জনের প্রাথমিক সংস্পর্শে কারা কারা এসেছে সেই তালিকা করা হচ্ছে। দুই পরিবারের সবাইকে হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। আর আরটিপিসিআর রিপোর্ট পজিটিভ থাকায় ওই এলাকাকে কনটেনমেন্ট জোন করা হবে।’

সম্প্রতি পলাশবাড়ির বাসিন্দা এক পুলিশকর্মী করোনায় আক্রান্ত হন। তবে ওই পুলিশকর্মী শিলিগুড়ির ভক্তিনগর থানায় কর্মরত ছিলেন। কিন্তু তিনি লালার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগেই ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন। এখন ওই পুলিশকর্মী তপসিখাতা কোভিড হাসপাতালে ভরতি রয়েছেন।