গঙ্গারামপুরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, মৃত ২

2303

গঙ্গারামপুর: তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গঙ্গারামপুর থানার উত্তর নারায়ণপুর এলাকায়। ঘটনায় দু’পক্ষের দুই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন কালীপদ সরকার ও সঞ্জীত সরকার। কালীপদবাবু গঙ্গারামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছিলেন। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজনকে আটক করেছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ।

জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই গঙ্গারামপুর থানার সুকদেবপুরে উত্তর নারায়ণপুর এলাকায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠির মধ্যে বিবাদ চলছিল। কিছুদিন দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েও উঠেছিল এলাকা। ফের এদিন সকালে উত্তর নারায়ণপুরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন সেখানে গুলি চলেছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন তৃণমূলকর্মী সঞ্জীত সরকার এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন গঙ্গারামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কালীপদ সরকার। তাঁদের উদ্ধার করে গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কালীপদ সরকারকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সঞ্জীত সরকারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। পরে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

- Advertisement -

ঘটনার পরেই গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসাপাতালে ছুটে যান তূণমূল কংগ্রেসের জেলা চেয়ারম্যান বিপ্লব মিত্র, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কো-অর্ডিনেটর ললিতা টিগ্গা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায়, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস প্রমুখ। এদিকে, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের পরেই তৃণমূলের এক কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় গঙ্গারামপুর থানার আইসি পূর্ণেন্দু কুমার কুণ্ডুর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। এলাকায় পৌঁছোন জেলা পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) ডেনডুপ শেরপা, গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দীপ কুমার দাস, গঙ্গারামপুর মহকুমা শাসক মানবেন্দ্র দেবনাথ, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মনতোষ মণ্ডল। এলাকায় নামানো হয় র‍্যাফ। ঘটনার পর থেকে চাপা উত্তেজনা রয়েছে এলাকায়। নাকাচেকিং শুরু করেছে পুলিশ।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত জানান, গঙ্গারামপুর থানার অন্তর্গত নারায়ণপুর এলাকায় মঙ্গলবার রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত সাতজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া একটি পিস্তল ও চারটি বোমা উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তৃণমূল জেলা সভাপতি গৌতম দাস জানান, মৃত সঞ্জীত সরকার তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি তৃণমূলের নেতা তথা গঙ্গারামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।