সোনারপুরে জোড়া মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য

513

সোনারপুর: জোড়া মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। শনিবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নবগঠিত বারুইপুর পুলিশ জেলার অন্তর্গত সুভাষ গ্রামের রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়ি থেকে এক মহিলা ও এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেন সোনারপুর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম সুমিতা পণ্ডিত।

জানা গিয়েছে, যে বাড়ি থেকে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার হয়েছে সেই বাড়িটি মৃতা সুমিতা পণ্ডিতের। সুমিতাদেবীর সঙ্গে বছর ছয়েক আগে রমেশ পণ্ডিতের বিয়ে হয়। বিয়ের শর্ত ছিল যে রমেশকে বিয়ের পর সুমিতার বাড়িতেই থাকতে হবে। সেই অনুসারে বিয়ের পর থেকে রমেশ তাঁর মাকে নিয়ে ওই বাড়িতেই থাকা শুরু করেন। তাঁদের পাঁচ বছরের কন্যাও রয়েছে। ওই বাড়িতে মাস কয়েক আগে আরও এক ব্যক্তি থাকা শুরু করেন। ওই ব্যক্তিকে সুমিতাদেবী প্রতিবেশীদের পাতানো বাবা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।

- Advertisement -

এদিন সকালে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় সুমিতাদেবীর দেহ বাড়িতে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। সুমিতাদেবীর গলার কাছে ক্ষতচিহ্ন দেখে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণের জন্যই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই পুলিশের নজরে আসে আরও একটি মৃতদেহ সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মৃত ব্যক্তির সারা দেহেও ক্ষতচিহ্ন রয়েছে এবং তাঁর পুরুষাঙ্গেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের অনুমান, চূড়ান্ত আক্রোশের দরুণই ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ওই ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে কিছুটা সংশয় দেখা দিলেও পরে জানা যায় যে ওই ব্যক্তি হলেন আসলে সুমিতাদেবীর পাতানো বাবা।

এই বিষয়ে সুমিতাদেবীর পাঁচ বছরের কন্যা পুলিশকে জানিয়েছে, তার বাবা তাঁর মাকে খুন করেছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে বেপাত্তা রয়েছেন রমেশ পণ্ডিত। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।