মেডিকেলে অমানবিকতার জেরে মৃত কিশোর সহ ২

323

কলকাতা: চিকিৎসকদের অসহযোগিতা ও অমানবিক চিকিৎসা পরিষেবার বলি হতে হল ১৮ বছরের এক কিশোরকে। এর জেরে উত্তেজনা ছড়ায় কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বর।

জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতা বোধ করছিল উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুরের বাসিন্দা তথা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। গত দু’দিন আগে তাকে ভর্তি করা হয় কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালে। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় বেলঘড়িয়ার নার্সিংহোমে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় পড়ে থাকার পরেও যখন কোনও চিকিৎসা মেলেনি তখন তার বাবা পুলিশের সহায়তায় চাওয়ার জন্য ফোন করতেই করোনা পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য শুভ্রজিতের লালার নমুনা সংগ্রহ করে ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। আর মাত্র তিন মিনিটেই শুভ্রজিতের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপরই তাকে ফেরত পাঠিয়ে দেয় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, যেহেতু ওই কিশোরের করোনা পজিটিভ তাই সেখানে তাকে ভর্তি করতে পারবে না। এরপর কিশোরের বাবা-মা ফের ইএসআই-সাগর দত্ত আবার ইএসআই হয়ে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এলেও সুচিকিৎসা পায়নি। শুধু তাই নয়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের অমানবিক ব্যবহারে টানা চার ঘণ্টা বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকতে হয় শুভ্রজিতকে। তাদের সেখান থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, জায়গা খালি না থাকার দরুণ ওই কিশোরকে তারা সেখানে ভর্তি করতে পারবে না। এরই মধ্যে কেটে গিয়েছে প্রায় সাত-আট ঘণ্টা। বিনা চিকিৎসায় শুভ্রজিতের শারীরিক অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। অবশেষে কিশোরের মায়ের আত্মহত্যার হুমকিতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও এক প্রকার চিকিৎসাহীন অবস্থায় পড়ে থেকে শুক্রবার রাতেই তার মৃত্যু হয়।

- Advertisement -

এদিন ভোরে হাসপাতালের তরফে শুভ্রজিতের মৃত্যুর খবর পরিবারের লোকেদের জানানো হয়। সঙ্গে বলা হয়, বেলা ১০টা নাগাদ হাসপাতালে এসে মৃতদেহ নিয়ে যেতে। সেইমতো শুভ্রজিতের মৃতদেহ নিতে এলে পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেওয়া হয়, যেহেতু ওই কিশোরের শরীরে করোনা সংক্রমণ রয়েছে তাই তার মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র মৃতের মুখ দেখতে দেওয়া হবে। আর এই নিয়ে শুরু হয়ে যায় বাকবিতণ্ডা।

মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, যেহেতু বেসরকারি নার্সিংহোমে তার শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে তাই তাকে করোনা আক্রান্ত রোগী ধরে নিচ্ছেন। তবে এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট কী করে পাওয়া সম্ভব হয়? শুধু তাই নয়, এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই কিশোরের বাবা-মা হাসপাতাল চত্বরে বসে থাকলেও ছেলের মৃতদেহ হাতে পায়নি। এমনকি তার মুখও দেখতে দেওয়া হয়নি।

এখানেই শেষ নয়, এদিন ওই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধরা পড়ল আরও একটি অমানবিক চিত্র। ক্যান্সার নিয়ে ভর্তি থাকা বেলঘড়িয়ার মধ্য বয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় মেডিকেল কলেজে। মৃত ওই ব্যক্তির দেহ তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়। বেলগাছিয়ার মৃত ওই ক্যান্সার রোগীর স্ত্রী জানান, গত ৩০ মে তাঁর স্বামীর করোনা পজিটিভ দেখা গেলেও ৬ জুলাই নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। অভিযোগ, ওই ব্যক্তিকে কোভিড বিল্ডিংয়ে ভর্তি রেখে ক্যান্সারের কোনও চিকিৎসাই করা হয়নি। আর বিনা চিকিৎসায় মারা যান তিনি। এছাড়া যে ব্যক্তির করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ তার মৃতদেহ কেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের হাতে তুলে দেবে না? এই নিয়েও শুরু হয়েছে বিতণ্ডা। আর এই দুটি ঘটনার জেরে এদিন সকাল থেকেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে।