ভিন ধর্মে বিয়ে মেনে নেয়নি দুই পরিবার, পুলিশের দ্বারস্থ নবদম্পতি

346
ছবি: প্রতীকী

মেখলিগঞ্জ: ভিন ধর্মের বিয়ে মেনে নেয়নি দুই পরিবার। অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন নবদম্পতি। জলপাইগুড়ির বামনপাড়ার যুবক ও যুবতী বাড়ির অমতে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিয়ে করেন ৯ জুন। কিন্তু দুজনের পরিবারই এই বিয়ে মেনে নেয়নি। উলটো তাদের উপর চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের বিরুদ্ধে। ভালোবাসাকে গুরুত্ব না দিয়ে ভিন ধর্ম হওয়ায় সামাজিকভাবে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করছে বলে জানতে পারেন নবদম্পতি। এনিয়ে গত ১৫ জুন জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি জানান তাঁরা। তারপরও পরিবার তাঁদের মেনে নেয়নি। অন্যদিকে, লকডাউন ও ভিন ধর্মের হওয়ায় রেজিস্ট্রি সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে কোনও উপায় না পেয়ে শনিবার রাতে মেখলিগঞ্জ থানার দ্বারস্থ হয় নবদম্পতি।

মেখলিগঞ্জ থানায় বসে নববধূ বলেন, ‘আমরা দুজনে একই গ্রামের সহপাঠী ছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে আমরা একে অপরকে ভালোবাসতাম। দুই বাড়ি মেনে নেয়নি জন্য আমরা রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিয়ে করে স্বামীকে নিয়ে ঘর ছেড়েছি। কিন্তু কিছু অসামাজিক মানুষের প্ররোচনায় দুই পরিবার মেনে নেয়নি। আমরা জানতে পারি আমাদের বিয়ে নিয়ে ঝামেলা করার পরিকল্পনা করছে পরিবারের লোকজন। অন্যদিকে, সংসার করার জন্য কোথাও ঠাঁই পাচ্ছি না। তাই থানায় আত্মসমর্পণ করতে এসেছি।’ ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতা ও ভালোবাসাকে গুরুত্ব দিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই দিক চান নববর। তিনি বলেন, ‘অনেক দিনের ভালোবাসাকে পরিপূর্ণতা দিতেই বিয়ে করেছি। কেউ মেনে না নেওয়ায় পালিয়ে বেড়াচ্ছি। কিন্তু কতদিন এভাবে চলবে। যেহেতু আইনমতে বিয়ে করেছি তাই আইনের দ্বারস্থ হলাম আমরা।’

- Advertisement -

মেখলিগঞ্জ থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানান, যুবক যুবতী দুজনকেই পুলিশের নিরাপদ হেপাজতে রাখা হয়েছে। জেলা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। যেভাবে নির্দেশ আসবে সেভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এনিয়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষ কেউ ছড়ালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনিয়ে দুই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি এদের বিরুদ্ধে পরিবারের লোকজন থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করেছে কী না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।