একদা লালদুর্গে এবার ফুল ফোটানোর দায়িত্বে ২ প্রাক্তন বাম নেতা

129

মেখলিগঞ্জ: রাজ্যের এক নম্বর বিধানসভা কেন্দ্র কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ এলাকা। এই বিধানসভা কেন্দ্রে এবার ফুল ফোটাতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি দু’পক্ষই। তবে এই দুই ফুল ফোটানোর মূল দায়িত্ব বর্তেছে বামফ্রন্টের প্রাক্তন দুই নেতার কাঁধে। তার মধ্যে একজন এবারের এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী পরেশচন্দ্র অধিকারী, অপরজন বিজেপি প্রার্থী দধিরাম রায়।

একদা বামেদের লালদুর্গ হিসেবে পরিচিত এই মেখলিগঞ্জে বামফ্রন্টের টিকিটে সারাভারত ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতীকে লড়াই করে একাধিকবার বিধায়ক হয়েছিলেন পরেশচন্দ্র অধিকারী। গত বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি বামফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে লড়েন এবং পরাজিত হন। তবে এবার পরেশের কাঁধে ভর দিয়ে মেখলিগঞ্জে জোড়া ফুল ফোঁটানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। অর্থাৎ একদা বামেদের জয়ের ভরসা পরেশ এবার তৃণমূল কংগ্রেসের ভরসা। অপরদিকে, যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবারও মেখলিগঞ্জে দধিরাম রায়ের ওপর ভরসা করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। অর্থাৎ দধিরাম গত বিধানসভা নির্বাচনের মতো এবারও পদ্মফুল চিহ্নে লড়াই করতে ময়দানে নেমেছেন। এই দধিরামও একটা সময় বামফ্রন্টের সারাভারত ফরওয়ার্ড ব্লক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফরওয়ার্ড ব্লকের লড়াকু ও দাপুটে নেতা হিসেবে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ছিল। এই আসনে এবার সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হয়েছেন সারাভারত ফরওয়ার্ড ব্লক দলের গোবিন্দ রায়ের মতো হেভিয়েট নেতা। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, মেখলিগঞ্জে এবার মূল লড়াই হতে চলেছে দুই ফুলের মধ্যে। স্বাভাবিকভাবেই তাই অনেকেই বলছেন যে, মেখলিগঞ্জে ফুল ফোটানোর দায়িত্ব পড়েছে দুই বামফ্রন্ট নেতার ওপর। তাঁদের কাঁধে ভর করেই ভালো ফল করে ভোট বৈতরণী পার হবার স্বপ্ন দেখছে তৃণমূল ও বিজেপি।

- Advertisement -

মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে ২ লক্ষ ২৬ হাজার ৫২৫ জন ভোটার এবার প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। পরেশচন্দ্র অধিকারী এবং তাঁর কর্মী-সমর্থকরা জানিয়েছেন, এই কেন্দ্র এবারও তৃণমূলের দখলে থাকবে। তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের আমলেও মেখলিগঞ্জেও ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। জনগণ তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন। তাই এবার তাঁদের জয়ের ব্যবধান বাড়বে বলেও আশা। অপরদিকে, বিজেপি প্রার্থী দধিরাম রায় ও দলের কর্মী-সমর্থকদের বক্তব্য, রাজ্যের এই এক নম্বর বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁদের ফল দারুণ ভালো হবে। মেখলিগঞ্জের মানুষও বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন। তাই এই কেন্দ্রেও পদ্মফুল ফোটা সময়ের অপেক্ষা বলেই তাঁদের আশা।