কালচিনি ব্লকে করোনা আক্রান্ত আরও ২

হাসিমারা: কালচিনি ব্লকে ক্রমশই বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। ফলে ব্লক প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্বেগ বাড়ছে ব্লকবাসীর মনে। শুক্রবার হ্যামিল্টনগঞ্জের ডিপোপাড়ায় এক প্রবীণ সিপিএম নেতার করোনা আক্রান্তের পর শনিবার ব্লকের বন্ধ মধু চা বাগান এক গৃহবধুর লালায় করোনা ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও জয়গাঁ ১ নম্বর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের অধীন দাড়াগাঁও এলাকার এক বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। কালচিনির বিডিও ভূষণ শেরপা জানিয়েছেন, জয়গাঁ ও হাসিমারার মধু চা বাগানের দুই এলাকা কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের দুই এলাকায় বাঁশের ব্যারিকেড তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও কিছু বাসিন্দা এখনও বিষয়টিকে উপেক্ষা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। লকডাউন নিয়ম ভেঙে বাড়ি থেকে বের হওয়া ও মাস্ক ব্যবহার না করার জন্য শনিবার জয়গাঁ থানার পুলিশ ১২ জনকে, হাসিমারা ফাঁড়ির পুলিশ ১০ জনকে ও কালচিনি থানার পুলিশ ১১ জন বাসিন্দাকে গ্ৰেপ্তার করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন মোতাবেক মামলা রুজু করে ব্যক্তিগত জামিনে পরে ধৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

- Advertisement -

বিডিও ভূষণ শেরপা বলেন, সাধারণ মানুষকে বারবার সচেতন করা হলেও এখনও অনেকেই সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি ব্লকবাসীকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আবেদন করেছেন। এদিকে করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ী সমিতির তরফে লকডাউন পালন করা হচ্ছে। কালচিনি ব্যবসায়ি সমিতি শনিবার ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে। শুক্রবার হ্যামিল্টনগঞ্জে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির তরফে লকডাউন শুরু করা হয়েছে। সেখানেও আপাতত এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। পুরানো হাসিমারায় পাঁচ দিনের লকডাউন শনিবার শেষ হতেই, রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ফের লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরানো হাসিমারা ব্যবসায়ী সমিতি।

বন্ধ মধু চা বাগানের বাবু লাইনের এক গৃহবধুর করোনা আক্রান্তের খবরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে ওই বাগানের বিভিন্ন শ্রমিক মহলে। বাগান সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে ওই গৃহবধূকে দুদিন আগে কালচিনির লতাবাড়ি গ্ৰামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ট্রুনাট মেশিনে লালা পরীক্ষার পর তাঁর দেহে করোনা ভাইরাস মিলেছে। সাতালি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনোজ বরুয়া বলেন, ব্লক প্রশাসনের নির্দেশ অনুসারে বাগানের ওই এলাকা বাঁশ দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। বাসিন্দাদের হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। উদ্বিগ্ন না হয়ে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বাগানের শ্রমিক ও বাসিন্দাদের।