হাসিমারায় করোনার থাবা, একই পরিবারের ২ সদস্য কোভিড পজিটিভ

হাসিমারা: কালচিনি ব্লকের পুরানো হাসিমারায় একই পরিবারের দুই সদস্যের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ব্লকে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ওই দুই করোনা আক্রান্তকে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর তড়িঘড়ি তপসিখাতার কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। তবে হাসিমারায় প্রথম করোনা আক্রান্ত ধরা পড়ায় অনেকেই আতঙ্কগ্ৰস্থ হয়ে পড়েছেন।

পাশাপাশি ওই এলাকায় কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করে বাঁশের ব্যারিকেড তৈরি করেছে কালচিনি ব্লক প্রশাসন। এছাড়াও পুরানো হাসিমারা ব্যবসায়ী সমিতির তরফে গোটা এলাকায় পাঁচ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে। আলিপুরদুয়ারের ডেপুটি সিএম ওএইচ (২) ডা: সূবর্ণ গোস্বামী বলেন, ওই এলাকার বাসিন্দাদের হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। কোনও বাসিন্দার করোনা উপসর্গ দেখা দিলে তাঁর লালার নমুনা সংগ্রহ করে কোভিড টেস্ট করা হবে।

- Advertisement -

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরানো হাসিমারার জয়গাঁর বাসিন্দা স্থানীয় এক যুবক কিছু দিন আগে উত্তরপ্রদেশ থেকে হাসিমারায় ফিরেছেন। কিছুদিন আগে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। তাঁকে জেলা হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন আগে ওই যুবক বাড়ি ফেরেন। তাঁর দাদাও জ্বরে আক্রান্ত হলে স্বাস্থ্য দপ্তর দুজনের লালা সংগ্ৰহ করে কোভিড টেস্টের জন্য পাঠায়। সোমবার রাতে তাঁদের দুজনের কোভিড পজিটিভ ধরা পড়ে। রাতেই তাঁদের কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার খবর চাউর হতেই সম্পূর্ণ এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক ও সাঁতালি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনোজ বরুয়া বলেন, স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে খবর পেয়েই এলাকায় করোনা ঠেকাতে পাঁচ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এলাকার মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি জীবাণুনাশক স্প্রে করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, হাসিমারায় প্রথম করোনা আক্রান্ত ধরা পড়ায় অনেকেই আতঙ্কগ্ৰস্থ হয়ে পড়েছেন। লকডাউনের ঘোষণা শুনে এলাকার সবজি বাজারে ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ে। বাজারে ক্রেতা বিক্রাতাদের অধিকাংশ মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব মানছেন না বলে অভিযোগ। কালচিনির বিডিও ভূষণ শেরপা বলেন, সাধারণ মানুষ এখনও সচেতন না হলে সমস্যা বাড়তে পারে। দ্রুত এলাকায় গিয়ে বাসিন্দাদের এবিষয়ে সচেতন করা হবে।

অন্যদিকে এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় শর্মা বলেন, বাসিন্দাদের প্রত্যেকের লালা পরীক্ষার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। এছাড়াও জয়গাঁ রোড বন্ধ করে এশিয়ান হাইওয়ের ওভার ব্রিজ দিয়ে আপাতত যাতায়াতের ব্যবস্থা করলে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা কমবে বলে মনে করি। যদিও ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, ওই এলাকাকে কনটেনমেন্ট জেন ঘোষণা করে বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে।