১২ বছর পরও খোঁজ মেলেনি দুই পুলিশ কনস্টেবলের, অপেক্ষায় পরিবার

568

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: এক আধ বছরের অপেক্ষা নয়, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ছেলেদের জন্য পথ চেয়ে বসে আছেন দুই পুলিশ কনস্টেবলের দুই বৃদ্ধা মা।

২০০৯ সালের ৩০ জুলাই পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড় থেকে অপহৃত হন পুলিশ কনস্টেবল সাবির মোল্লা ও কাঞ্চন গড়াই। তাঁরা আজও বাড়ি ফেরেননি। ছেলেদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন সাবিরের মা জাহানারা বেগম ও কাঞ্চনের মা মিনতি গড়াই।

- Advertisement -

চোখের জল মুছতে মুছতে জাহানারা জানান, ১২ বছর আগে তাঁর ছেলে সাবির ও সহকর্মী কাঞ্চন ধরমপুর পুলিশ ক্যাম্প থেকে লালগড় বাজারে ডিউটি করতে যাওয়ার পথে অপহৃত হন।

অভিযোগ, মাওবাদীরাই সাবির ও কাঞ্চনকে অপহরণ করে। তারপর ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ওঁদের হদিস মেলেনি। এবার রাজ্য প্রশাসন ওই দুই পুলিশকর্মীকে মৃত ঘোষণা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাবিরের দাদা সামাদ মোল্লা জানান, ২০০৯ সালের ৩০ জুলাই বিকেলে একই বাইকে চেপে ধরমপুর পুলিশ ক্যাম্প থেকে লালগড় বাজারে ডিউটিতে যাচ্ছিলেন সাবির ও কাঞ্চন। পথে তাঁরা অপহৃত হন। বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন রাজ্যের বিরোধী নেত্রী। তিনি অপহৃত দুই পুলিশকর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তারপর ক্ষমতার পালাবদল হয়। তৃণমূল ক্ষমতায় আসে। মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা। কিন্তু আজও সাবির ও কাঞ্চনের খোঁজ মেলেনি। সামাদের অনুমান, এবার হয়তো সাবির ও কাঞ্চনকে মৃত ঘোষণা করা হবে।

খাতায়-কলমে আজও সাবির মোল্লা ও কাঞ্চন গড়াই ‘মিসিং অন ডিউটি’। তবে বেতনের টাকা প্রতি মাসে তাঁদের অভিভাবকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে। ২০১৭ সালে রাজ্য সরকারের তরফে সাবিরের দাদা শরিফ মোল্লা ও কাঞ্চনের ভাই তারক গড়াইয়ের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা হয়।

এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র দেবু টুডু বলেন, ‘প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অপহৃত দুই পুলিশকর্মীর পরিবারের পাশে ছিলেন ও এখনও আছেন। দুই পরিবারের একজন করে সদস্যের চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।‘