করোনা আক্রান্ত কর্মী, পঞ্চায়েতে তালা

495

বর্ধমান: করোনার সংক্রমণ ছড়ানোয় এবার তালা পড়ল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের জাড়গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসে। এই পঞ্চায়েত অফিসের দু’জন কর্মীর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ায় অফিসের বাকি কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্তদের আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই তালা পড়ে যায় জাড়গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের গেটে। গোটা পঞ্চায়েত অফিস জীবাণুমুক্ত করার কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর পঞ্চায়েত অফিস খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে পূর্ব বর্ধমান জেলায়। স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী , ইতিমধ্যেই জেলায় কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩০০ ছাড়িয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত জেলার ৪৫ জন কোভিড আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। যা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ দপ্তর।

- Advertisement -

করোনার থাবায় এই প্রথম জেলার কোন সরকারি দপ্তরের গেটো তালা পড়ল এমনটা নয়। সম্প্রতি একাধিক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী কোভিড আক্রান্ত হওয়ায় তালা পড়েছিল জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আউটডোর বিভাগে। এছাড়াও করোনা আক্রান্ত হন জেলার খণ্ডঘোষ থানা ও পালসিট পুলিশ ফাঁড়ির একাধিক পুলিশকর্মী।সেই কারণে তালা পড়েছিল খণ্ডঘোষ থানা ও পালসিট পুলিশ ফাঁড়িতেও। সহ সভাধিপতি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ার পর পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদ ভবনের গেটেও তালা পড়েছিল। এবার করোনার থাবায় জেলার জাড়গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে গেটে পড়ল তালা। যে কারণে জাড়গ্রাম অঞ্চলের মানুষজন এখন আর কেউ পঞ্চায়েত অফিস মুখো হচ্ছেন না।

জাড়গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুভাষ কোলে শনিবার বলেন, আমাদের পঞ্চায়েত অফিসে ৮ জন স্থায়ী কর্মী ছাড়াও বেশ কয়েকজন চুক্তিভিত্তিক কর্মীও রয়েছেন। গত রবিবার এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীর প্রথম করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। এরপর মঙ্গলবার ফের আরেক জন পঞ্চায়েতকর্মীর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। একের পর এক পঞ্চায়েত কর্মীর করোনা আক্রান্ত হওয়ায় অন্য পঞ্চায়েত কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। সেই কারণে ওই দিন থেকেই পঞ্চায়েত অফিস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপপ্রধান বলেন, পঞ্চায়েত অফিস বন্ধ থাকায় আমি এখন বাড়িতে বসেই এলাকার জনগণকে পরিষেবা দেওয়ারর কাজ করে যাচ্ছি।

তবে এরই মধ্যে সুখবর উপপ্রধান সহ পঞ্চায়েতের ২০ জন সদস্য ও বাকি সকল পঞ্চায়েত কর্মীদের অ্যান্টিজেন টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। পঞ্চায়েত অফিস জীবাণুমুক্ত করার কাজ দু‘প্রস্থ হয়েছে। আবারও একবার করতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। উপ-প্রধান সুভাষ কোলে আশাপ্রকাশ করেছেন, গোটা পঞ্চায়েত অফিস জীবাণুমুক্ত করে আগামী ২-৩দিনের মধ্যে অফিস সচল করে ফেলা যাবে। যদিও জামালপুরের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, সোমবার থেকেই পঞ্চায়েতে অফিসে কাজকর্ম স্বাভাবিক নিয়মে হবে।