দুই বছরেও মেলেনি ঋণ, কাঠগড়ায় স্বনির্ভর দপ্তর

354

সৌরভ রায়, কুশমণ্ডি : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বনির্ভর বিভাগের উদাসীনতায় হতাশ উদ্যমী ব্যবসায়ীরা। লোনের জন্য সরকারেরই দেওয়া ভরতুকির টাকা ব্যাংকে আসার পর ১৮ মাস পেরিযে গেলেও প্রাপকদের নামের তালিকা না আসায় লোন দিতে পারছে না ব্যাংক। এমন ঘটনায় হতাশা ছড়িয়েছে কুশমণ্ডির উদয়পুর এলাকায়। দীর্ঘদিন পরেও লোনের টাকা না মেলায় বিষয়টি দিদিকে বলো কর্মসূচির মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনার হুঁশিযারি দিয়েছেন উপভোক্তারা।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সাল। ওই বছর রাজ্য সরকারের স্বামী বিবেকানন্দ স্বনির্ভর কর্মসংস্থান প্রকল্পে কুশমণ্ডি ব্লকের তিন নম্বর উদয়পুর পঞ্চায়েতের ২০ জন তরুণ উদ্যমী নিজেদের ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য ঋণের আবেদন করেন। আবেদন অনুসারে উদয়পুর পঞ্চায়েতে অবস্থিত বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাংক ২০ জনকে ঋণ দেবে বলে ঠিক করে। ব্যাংকের অনুমোদিত ওই ২০ জনের নামের তালিকা ব্লক অফিস থেকে জেলা হয়ে রাজ্য স্বনির্ভর দপ্তরে পৌঁছায়। ২০১৮ সালের ফেব্রুযারি মাসে রাজ্য সরকারের স্বনির্ভর দপ্তর দুই দফায় ওই ব্যাংকে লোনের জন্য আবেদনকারীদের ভরতুকি বাবদ মোট ১০ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯১১ টাকা পাঠায় ব্যাংকের মহিপাল শাখায। ব্যাংকের পক্ষ থেকে ২০ জনের ঋণ মঞ্জুর হলেও রাজ্য সরকার ১৯ জনের জন্য সাবসিডির টাকা দিয়েছে বলে ব্যাংককে জানায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ওই ১৯ জনের নামের তালিকা এখনো পাঠায়নি রাজ্য সরকারের স্বনির্ভর দপ্তর। যার ফলে ওই সাবসিডির টাকা কোন উপভোক্তাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আঁধারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রায় দুই বছর ধরে পড়ে রয়েছে ভরতুকির টাকা।

চণ্ডীপুর গ্রামের বুধন হেমব্রম বলেন, মাছের ব্যবসার জন্য রাজ্য সরকারের এসবিএসকেপি প্রকল্পে লোনের আবেদন করেছিলাম ২০১৬ সালে। সাবসিডির টাকা ব্যাংকে এলেও কারা ওই লোন পাবে, তার তালিকা রাজ্য স্বনির্ভর দপ্তর না পাঠানোয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঋণ দিতে পারছেন না। একই কথা জানিয়েছেন চাকদহ গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ফারহাদ হোসেন, কদমডাঙা গ্রামের পোলট্রি ফার্মের ব্যবসায়ী উম্মেহানি বেগম, শিলিগুড়ি মোড়ের মিষ্টি ব্যবসায়ী পুতুল রায় সহ অন্যরা। তাঁরা বলেন, ব্যাংকে ভরতুকির টাকা আসার ১৮ মাস পার হলেও এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের স্বনির্ভর দপ্তর এসবিএসকেপির উদয়পুরের নামের তালিকা পাঠালো না। তাই লোনের টাকা পাচ্ছি না। সাবসিডি পাব এই আশা ছিল। কিন্তু আড়াই বছর পার হয়ে যাবার পরে মনে হচ্ছে, অন্য কোথাও থেকে সুদে টাকা নিয়ে ব্যবসায় লাগালে পিছিয়ে পড়তাম না। সাবসিডির টাকা এসে যাবার পরেও সরকার কেন নামের তালিকা পাঠাচ্ছে না, জানি না। এই বিষয়ে বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাংকের মহিপাল শাখার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নামের তালিকা রাজ্য থেকে না এলে ঋণ দেওয়া যাবে না। তবে সাবসিডির টাকা এসেছে সেটা জানিয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে কুশমণ্ডি ব্লকের প্রকল্প সহায়ক আলতাপ আলি বলেন, ২০১৮ সালে রাজ্য সরকারের স্বনির্ভর দপ্তর দুই দফায় ওই ব্যাংকে আবেদনকারীদের সাবসিডির টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু নামের তালিকা পাঠায়নি। তাই ব্যাংক লোন দিতে পারবে না বলেছে। কুশমণ্ডি ব্লকের ওই বিভাগের চেয়ারম্যান তথা বিডিও মহম্মদ জাকারিয়া ও প্রকল্পের ব্লকের সুপারভাইজার সাহেব শেখ বলেন, নামের তালিকা যাতে দ্রুত রাজ্য থেকে আসে সেই বিষয়ে জেলা হয়ে রাজ্যস্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। আবেদনকারীরা বলেন, আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব। যদি রাজ্য থেকে নামের তালিকা না আসে, তবে আমরা দিদিকে বলো কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে বিষয়টি নিয়ে আসব।