লাদাখে শহিদ ২০ ভারতীয় জওয়ান, কেন্দ্রকে তোপ সনিয়ার

297

নয়াদিল্লি: শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস সহ মোট ২০টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতানেত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। কংগ্রেসের তরফে এদিনের বৈঠকে আগাগোড়া সরকারের সমালোচনা করা হয়। এদিনের বৈঠকে প্রথম বক্তা ছিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধি। শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি এদিন প্রধানমন্ত্রীর সামনে একাধিক প্রশ্ন রাখেন। চিনা সেনা কীভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করল, তা কেন্দ্রের কাছে জানতে চান সনিয়া। তিনি বলেন, ‘এই বৈঠক অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। গত ৫ মে চিনা অনুপ্রবেশের ঘটনা সামনে আসে। তারপরই এই বৈঠক ডাকা প্রয়োজন ছিল কেন্দ্রের। গোটা দেশ কেন্দ্রীয় সরকারকে সমর্থন করছে। কিন্তু এখনও আমরা অনেকগুলি বিষয় সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছি।’

সনিয়ার প্রশ্ন, কবে চিনাবাহিনী লাদাখে আমাদের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেছিল? এই ঘটনা কবে কেন্দ্রীয় সরকার জানতে পেরেছিল? যেমনটা বলা হয়েছিল ৫ মে না কি তারও আগে? কেন্দ্রীয় সরকার কি নিয়মিতভাবে আমাদের সীমান্তের উপগ্রহ চিত্র পায় না? প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় অস্বাভাবিক কার্যকলাপের আগাম তথ্য কি আমাদের গোয়েন্দারা পাননি? প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা অথবা ভারতীয় সীমানায় চিনা অনুপ্রবেশের ব্যাপারে সেনা গোয়েন্দারা কি কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করেননি? এই ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যর্থতা রয়েছে কি?

- Advertisement -

কংগ্রেস সভানেত্রী আরও জানতে চান, চিনা বাহিনীকে পিছু হটানোর ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী? এছাড়া মাউন্টেন স্ট্রাইকস কর্পস এবং মাউন্টেন ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের বর্তমান অবস্থাও জানতে চান কংগ্রেস সভানেত্রী।

সর্বদল বৈঠকের আগে এদিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছিলেন রাহুল গান্ধি। টুইটারে তিনি বলেন, ‘এখন এটা স্পষ্ট যে গালওয়ানে চিনের আক্রমণ পূর্বপরিকল্পিত ছিল। ভারত সরকার ঘুমিয়ে ছিল এবং সমস্যা মানতে অস্বীকার করেছিল। এর মাশুল গুনেছেন আমাদের শহিদ জওয়ানরা।‘

অন্যদিকে, বিরোধী শিবির এবং দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার বলেন, ‘চিনা সেনা ভারত ভূখন্ডে ঢুকতে পারেনি, আমাদের কোনও সেনাছাউনির দখলও নেয়নি। আমাদের ২০ জন জওয়ান শহিদ হয়েছেন। যেসব চিনা সেনা অনুপ্রবেশ করতে এসেছিল, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।’