পানীয় জল থেকে বঞ্চিত চাকুলিয়ার ২০ হাজার বাসিন্দা

299

মহম্মদ আশরাফুল হক, চাকুলিয়া : পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার বদলে মুখ থুবড়ে পড়েছে চাকুলিয়ার জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের (পিএইচই) জলপ্রকল্প। ২৪ বছর ধরে প্রকল্প চালু থাকার পরেও কেন একাধিক গ্রামে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছোয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, অল্প গভীরতায় পাইপ বসানোর পর গাড়ির চাপে সেগুলি ফেটে যায়। তারপর সেসব এলাকার সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিষয়টি বারবার প্রশাসনের নজরে আনা সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান হয়নি। অথচ প্রত্যেক বছর এগুলি মেরামতের জন্য টেন্ডার করা হয়। অভিযোগ, বাস্তবে কোনও কাজ না করে পুরো টাকা চলে যায় ঠিকাদার ও দপ্তরের আধিকারিকদের পকেটে। চাকুলিয়ার বিডিও কানহাইয়াকুমার রায় বলেন, কোন কোন এলাকায় এই সমস্যা রয়েছে, সেখানকার বাসিন্দারা আগে লিখিত অভিযোগ করুন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৯৯৬ সালে চাকুলিয়ায় পিএইচইর প্রকল্প চালু হয়। চাকুলিয়ার ঘরধাপ্পা, ডোকাটোলা আদিবাসীপাড়া, কাহাটা, সেথোর, শিরশী ডুমুরিয়া, বিজুলিয়া প্রভৃতি গ্রামের ভিতর দিয়ে জলের পাইপলাইন বসানো হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভারী যানবাহনের চাপে জলের পাইপ ফেটে গেলে তা মেরামত করা হয়নি, উলটে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। পাঁচ-ছয়টা গ্রাম মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা পানীয় জল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। জল সরবরাহের জন্য এলাকায় দুটি মেশিন বসানো হয়েছে। ১৬ কিমি জুড়ে অন্তত ৪০টি কল বসানোর দরকার থাকলেও তা হয়নি। চাকুলিয়া ব্লক অফিস সংলগ্ন এলাকায় তিনটি কল চালু রয়েছে।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা তপনকুমার দাস বলেন, আমার বাড়ির সামনে পিএইচইর জলের পাইপ পাঁচ বছর ধরে ফেটে রয়েছে। মেরামত করার জন্য দপ্তরের আধিকারিককে একাধিকবার সমস্যার কথা জানিয়েছি। কিন্তু তাঁরা টালবাহানা করে সময় কাটিয়ে দিচ্ছেন। বাড়ির ভিতরে পিএইচইর জল ঢুকে পড়ছে। একইভাবে এলাকার একাধিক জায়গায় জলের পাইপ ফেটে গিয়েছে বলে অভিযোগ। শিরশী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মহম্মদ আবু তাহের বলেন, আমাদের এলাকাটি টাইফয়েডপ্রবণ এলাকা। বর্ষা নামলে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ১৯৯৬ সালে পিএইচইর জলের প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও এর পরিষেবা আজও পেলেন না এলাকার বাসিন্দারা। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিক ও ঠিকাদার মিলে প্রত্যেক বছর টেন্ডার হওয়ার পর বরাদ্দ টাকা নয়ছয় করছেন, ফলে কাজের কাজ কিছুই হয় না। স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য নারায়ণচন্দ্র সরকার বলেন, এইভাবে অনিয়ম চলতে পারে না। তবে আমি শুনেছি, নতুন জলের পাইপ বসানোর জন্য আবার টেন্ডার হয়েছে। এই সমস্যা নিয়ে দপ্তরের আধিকারিকের সঙ্গে আলোচনা করছি।

জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের আধিকারিক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে পূর্ত দপ্তর আমাদেরকে না জানিয়ে রাস্তা চওড়ার কাজ শুরু করলে পিএইচইর জলের পাইপলাইন রাস্তার মাঝে পড়ে যায়। ফলে মেরামতের কাজ করা সম্ভব হয়নি। সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য নতুনভাবে কাজ শুরু হয়েছে। ঠিকাদারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।