১২ জেলার ২০০ জনকে ডুবুরির প্রশিক্ষণ মাইথনে

137

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: রাজ্য সিভিল ডিফেন্স দপ্তরের উদ্যোগে ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সহযোগিতায় মাইথনে বাংলার ১২টি জেলার প্রায় ২০০ জনকে ডুবুরির প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হল। প্রতিটি জেলা থেকে এরজন্য সাঁতার জানা ও শারীরিকভাবে সক্ষম ২০ জনকে এই প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে থেকে গড়ে ৫জন করে নানা কারণে মাইথনে আসার পরে পরীক্ষার মাধ্যমে বাদ পড়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। শনিবার প্রথম পর্যায়ে পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের প্রায় ৪৫ জনকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শেষ হয়। রবিবার নতুন করে আরও তিনটি জেলার প্রশিক্ষণ শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে।

এদিন মাইথনে গিয়ে দেখা যায় জলাধারে এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ চলছে। রাজ্য সরকার এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সর্বভারতীয় স্তরে টেন্ডার আহ্বান করেছিল অভিজ্ঞতা আছে এমন বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে। তাতে পুনার একটি সরকারি সংস্থা অনুমোদিত তিন প্রতিনিধি প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সুযোগ পেয়ে মাইথনে এসেছেন। এখানে দুটি আলাদা করে বিশেষ ধরনের উদ্ধারকারী দলের জন্য তৈরি হওয়া বিদেশি নৌকো ব্যবহার করা হচ্ছে। সেসব বিশেষ ধরনের নৌকোতে চেপে প্রশিক্ষণ নিতে আসা যুবকেরা মাইথন জলাধারের ৫০ফুট গভীরে ঝাঁপ দিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন জলের নিচে।

- Advertisement -

এদের মধ্যে অন্যতম দেবজিৎ হাজরা ও ধনঞ্জয় মাইতি বলেন, ‘আমাদের সাঁতারে অভিজ্ঞতা আছে। ধীরে ধীরে ৫০ফুট জলের নিচে পৌঁছেছি। তখন নিচে আলাদা আলাদা রঙের জলের স্তর দেখতে পাই। সেসময় কারোর কারোর কান ও নাক দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে। তবে ২ঘন্টা পরে সেটা আবার ঠিক হয়ে যায়। এতে ভয়ের কিছু নেই।’ সুমন্ত কোনার নামে আরেও একজন বলেন, ‘আমরা এখানে প্রশিক্ষনে আসার আগে সমস্ত রকমের মেডিকেল পরীক্ষা করিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য দপ্তরের সার্টিফিকেট নিয়ে এসেছি। তারপরেও কলকাতা থেকে যিনি চিকিৎসক এসেছেন তিনি সারাক্ষণ থাকছেন ও আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখছেন।’

এদিন কি ধরনের পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে? তার উত্তরে প্রশিক্ষণ নিতে আসা যুবকেরা জানান, লিখিত পরীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে, নৌকা থেকে জলে ঝাঁপ দেওয়া শুরু করে সবক্ষেত্রেই আলাদা আলাদা নম্বর আছে। এই প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য একজনকে ৫৬০টাকা করে রাজ্য সরকার দিচ্ছে। এখানে থাকার জন্য কোনও খরচ লাগছে না। খাওয়ার খরচ হিসেবে যে টাকা সরকার দিচ্ছে, তার থেকেই তা দিয়ে দেওয়া হবে। এই প্রশিক্ষণ শেষে শংসাপত্র পাওয়া যাবে। যা এইসব যুবকদের ভবিষ্যতে চাকরির ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। যারা প্রশিক্ষণ নিতে এসেছেন তাদের অধিকাংশই বলেন, ‘আমরা যেহেতু একেবারেই গ্রাম থেকে আসছি তাই প্রশিক্ষণ শেষে বাড়িতে গিয়ে বসে থাকব। মাঝে মধ্যে অন্তত কিছু মহড়া করার ব্যবস্থা সরকার যদি মহুকুমা পর্যায়ে করে তাহলে ভাল হয়।’

এদিকে, পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিপর্যয় মোকাবিলার দায়িত্বে থাকা আধিকারিক তথা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তমোজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘১২টি জেলা থেকে সাঁতার জানা যুবকরা এখানে ডুবুরির প্রশিক্ষণ নিতে পারে সেই ব্যবস্থা রাজ্যের সিভিল ডিফেন্সের উদ্যোগে করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন তাতে সহযোগিতা করা হচ্ছে। প্রতি জেলায় বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য এমন দল থাকা প্রয়োজন। ২০১৮ সালে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এই ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাতে অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে এই নদীতে বা পরিত্যক্ত খনিতে ডুবে যাওয়া মানুষকে উদ্ধার করেছে। এদের মধ্যে থেকে অন্তত ৬জনকে যাতে সরকারি কাজ দেওয়া যায় তার জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ পাঠিয়েছি। কিন্তু আসানসোল-দুর্গাপুর খনি শিল্পাঞ্চলের বিশেষ করে পরিত্যক্ত খনিতে বিভিন্ন সময় মানুষের ডুবে যাওয়ার ঘটনার ক্ষেত্রে ইসিএলের নিজস্ব উদ্ধারকারী দলে ডুবুরির প্রশিক্ষণ থাকা উচিত। আমরা ওদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। ইসিএল কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দিয়েছি। মাইন্স রেসকিউ এই ব্যাপারে উৎসাহ দেখিয়েছে। তাদের কাছ থেকে আমরা আবেদন পেলে তা কলকাতায় পাঠিয়ে দেব অনুমতির জন্য। যদি তারা এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নেয় তাহলে তাদের নিজস্ব একটি দল তৈরি হয়ে যাবে। তাহলে তাদের কোথাও কোন উদ্ধার কাজে অসুবিধা হবে না।’