পরিশ্রুত পানীয় জল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত ২০ হাজার বাসিন্দা

322

তুফানগঞ্জ: তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের অন্দরান ফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের  ১২টি বুথের প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের পরিশ্রুত পানীয় জলের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এখনও পর্যন্ত পানীয় জল পরিষেবা চালু না হওয়ায় একপ্রকার বাধ্য হয়েই গভীর নলকূপের আয়রন যুক্ত জল খেতে বাধ্য হচ্ছেন। গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিকাংশ মানুষই পেটের সমস্যা সহ নানা সমস্যায় ভুগছেন। আগামী বিধানসভার আগে পানীয় জলের সমস্যা না মিটলে ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এলাকাবাসী।

গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২১৪২.৬৪ একর আয়তন বিশিষ্ট অন্দরানফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে ২০১১ আদম সুমারী অনুযায়ী, লোকসংখ্যা ১১৭১৯ জন হলেও বর্তমানে লোকসংখ্যা ২০হাজার পেরিয়ে গিয়েছে অথচ এখনও গড়ে ওঠেনি গোটা গ্রাম পঞ্চায়েতে পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা। এই গ্রাম পঞ্চায়েতে রয়েছে ১টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র, ১৬টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ২টি।

- Advertisement -

পানীয় জলের সমস্যায় রয়েছেন ৯/১৮৫ নম্বর বুথের খোড়ারপাড় (সংসদ নং ২), ৯/১৮৬ নম্বর বুথের যমেরডাঙ্গা(সংসদ নং ১), ৯/১৮৭ নম্বর বুথের মনীন্দ্র নগর কলোনি(সংসদ নং ৩), ৯/১৮৮ নম্বর বুথের বটতলা(সংসদ নং ৩), ৯/১৮৯ নম্বর বুথের গ্রাম পঞ্চায়েতের কার্যালয় তথা পালপাড়া(সংসদ নং ৪), ৯/১৯০ নম্বর বুথের চিলারায়গড়(সংসদ নং ৫), ৯/১৯১ নম্বর বুথের দেবনাথ পাড়া(সংসদ নং ৬), ৯/১৯২ নম্বর বুথের সুভাষপল্লি(সংসদ নং ৭), ৯/১৯৩ নম্বর বুথের নয়নেশ্বরী (সংসদ নং ৮), ৯/১৯৪ নম্বর বুথের কুটিবাড়ি(সংসদ নং ৮), ৯/১৯৫ নম্বর বুথের ইটভাটা কলোনি অর্থাৎ ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের দক্ষিণ দিকের অংশ(সংসদ নং ৯) ও ৯/১৯৬ নম্বর বুথের অন্দরানফুলবাড়ি পশ্চিম অর্থাৎ ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের উত্তর দিকের অংশ(সংসদ নং ৯)।

ভৌগলিক দিক দিয়ে এই গ্রাম পঞ্চায়েত তুফানগঞ্জ পুরসভার লাগোয়া হওয়া সত্ত্বেও কেন গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০ হাজার বাসিন্দা পরিশ্রুত  পানীয় জল থেকে বঞ্চিত তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন? ভোটের আগে নেতাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এতদিনে গ্রামবাসীরা বুঝে গিয়েছেন। তাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে পানীয় জলের ব্যবস্থা না হলে গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে বড়সড় আন্দোলনে সামিল হবেন ও ভোট বয়কটের ডাক দিতে পিছপা হবেন না।

সুভাষপল্লি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নিরঞ্জন কর্মকার বলেন, গোটা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। আমাদের প্রাপ্য অধিকার থেকেই আমরা বঞ্চিত। প্রশাসনকে বহুবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। মোদিজীর ডিজিটাল ইন্ডিয়ার স্বপ্ন ভিখারি ভারতবর্ষে, চোরের বাংলায় কোনদিনও বাস্তবায়িত হবে না। তাই বিধানসভা ভোটের আগে হয় পানীয় জল পরিষেবা নয়ত ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিতে হবেই। নয়নেশ্বরী এলাকার গৃহবধূ অনিমা দাস বলেন, আমরা কি স্বাধীনতা অর্জন করেছি? আমরা কোন দেশে বাস করি? যে গ্রামে সাধারণ মানুষের জন্য নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা, নেই চলাচলের উপযোগী রাস্তা, নেই পথবাতি, সেই এলাকার নেতারা কোন লজ্জায় ভোটের আগে ভোট ভিক্ষার জন্য দরজায় দরজায় ঘুরে? যারা এলাকার উন্নয়নের কথা না ভেবে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত, তাঁরা কোন লজ্জার ভোট চাইতে আসেন? আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে পানীয় জল পরিষেবা চালু না হলে ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এলাকাবাসী।

অন্দরানফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ধরনী কান্ত বর্মন বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পানীয় জলের দাবি দীর্ঘদিনের। ২০ হাজারের বেশি মানুষ পরিশ্রুত পানীয় জলের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আয়রন যুক্ত জল পান করতে বাধ্য হচ্ছেন। এলাকায় পানীয় জলের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু বিভিন্ন দপ্তরে বার বার বিষয়টি জানানো হলে, আশ্বাস মিললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছেন। ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আবারও এ ব্যপারে প্রশাসনকে জানানো হবে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের তুফানগঞ্জ শাখার সহকারী বাস্তুকার প্রসেনজিত্ রায় বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জেলার সমস্ত এলাকায় প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জলের পরিষেবা পৌছেঁ যাবে বলে আশা করা যায়।