পুজোর বাজার মাতাবে কালনার ‘করোনা স্পেশাল’ শাড়ি

791

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: করোনা আতিমারির মধ্যেই আর কয়েকদিন বাদ শারদোৎসবে মাতোয়ারা হবে বাংলা। সেই পুজোর ফ্যাশনে করোনার প্রভাব পড়বে না তা আবার হতেপারে নাকি! সেকথা মাথায় রেখে ‘করোনা স্পেশাল’ তাঁতের শাড়ি তৈরি করেই এবছর তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের কালনার তাঁত শিল্পীরা। মহিলাদের মধ্যে হিড়িক পড়ে গিয়েছে সেই শাড়ি কেনার। মন্দার বাজারে ‘করোনা স্পেশাল ’শাড়িকে আঁকড়েই করোনা অতিমারির মধ্যে লাভের মুখ দেখতে চাইছেন কালনার তাঁতশিল্পী ও বস্ত্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, পুজোর মরসুমে করোনা ষ্পেশাল শাড়ি সকলের যেমন মন জয় করবে তেমনিই পুজোর ফ্যাশনেও বাজিমাৎ করবে।

করোনা থাবায় বেসামাল ভারত সহ গোটা বিশ্ব। পূর্ব বর্ধমানেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজারের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৭২ জনের। করোনার এমন প্রভাব বৃদ্ধির মাশুল গুনতে হয় তাঁত শিল্পীদেরও। তারই মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান কালনার তাঁত শিল্পীরা। অবশেষে ‘করোনা স্পেশাল’ তাঁতের শাড়ি তৈরি করে সুদিন ফেরার আশায় দিন গুনছেন কালনার তঁতিরা। ‘করোনা স্পেশাল’ শাড়ি পরে সর্বস্তরের মানুষ যাতে পুজো উপভোগ করতে পারেন সেই কথা মাথায় রেখে তাঁতিরা সকলের সাধ্যের মধ্যে রাখেছেন শাড়ির দাম।

- Advertisement -

কালনার তাঁতিরা জানান, ‘করোনা স্পেশাল’ তাঁতের শাড়ি তৈরির ভাবনা কথা তাঁতিদের প্রথম বলেন কালনার হাতিপোতা গ্রাম নিবাসী ও গবেষক রেজাউল ইসলাম মোল্লা ওরফে রানা। দুর্গাপুজোয় এই শাড়ি দুঃস্থ মানুষজনের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য রেজাউল তাঁতিদের বরাতও দিয়েছেন। সুতির উপর বুটিকের কাজ ছাড়াও ছাপা ও সিল্কের উপর করোনা প্রতীক দেওয়া শাড়িতে রং ও ডিজাইনের বৈচিত্র্যও ঘটিয়েছেন তাঁতিরা। শাড়ির বাজারে যথেষ্ট সুনাম ও কদর রয়েছে কালনার ধাত্রীগ্রামের তাঁত শিল্পীদের। তবে, করোনা আবহে এবছর শাড়ি বিক্রীর বাজারে যথেষ্ট ভাটা পড়েছে। তাই রেজাউলের ভাবনাকে মান্যতা দিয়ে কালনার তাঁতশিল্পীরা শাড়িতে অভিনবত্ব এনে বাজার ধরতে চাইছে। সুনিপুন হাতের ছোঁয়ায় রং, বে রংয়ের সুতো দিয়ে তারা টাঙ্গাইল, সুতি ও সিল্কের শাড়ির উপরে করোনার প্রতীক ফুটিয়ে তুলেছেন।

কালনার ধাত্রীগ্রামের তাঁতি পিন্টু বসাক, শম্ভু বসাক প্রমুখ বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রতীক ফুটিয়ে তোলা সিল্কের শাড়ি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, সুতির শাড়ি এক হাজার থেকে বারোশো টাকার মধ্যে তাঁরা দাম রেখেছেন। পিন্টু বসাক বলেন, তাঁরা করোনা স্পেশাল শাড়ির ভালো বরাত পেয়েছেন। কালনার শাড়ি ব্যবসায়ী সুবোধ বসাক বলেন, ‘করোনা নিয়ে সচেতনতার বার্তা দিতে গবেষক রেজাউল ইসলাম মোল্লা করোনা স্পেশাল শাড়ি বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনিই প্রথম ওই শাড়ির বরাত দেন। তাতে তাঁতিরা আগ্রহী হয়ে ‘করোনা স্পেশাল’ শাড়ি তৈরি শুরু করে দেন। এই শাড়ি ক্রেতা মহলেও যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। সুবোধ বসাক দাবি করেন,ব্যবসায়ীরা সবাই মনে করছেন করোনা স্পেশাল শাড়ি হয়তো এই করোনা আবহে তাঁদের সুদিন ফেরাতে সহায়ক ভূমিকা নেবে।