মল্লারপুরে বন্ধ সফল দাবি বিজেপির, গুন্ডাকে ছাড়ানোর জন্য ডাকা বন্ধ ব্যর্থ বলছে তৃণমূল

290

রামপুরহাট, ২২ সেপ্টেম্বরঃ দলীয় নেতাকে মিথ্যে মামলা দিয়ে পুলিশ হেপাজতে নেওয়ার প্রতিবাদে ডাকা মল্লারপুর বন্ধ সর্বাত্মক হয়েছে বলে দাবি বিজেপির। বন্ধ ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে জোর করে দোকান খোলানোর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। এদিকে, ওই নেতাকেই বিজেপির দলের গুন্ডা বলে কটাক্ষ করেছেন রাজ্য শাসক দলের নেতৃত্ব। বিজেপির ডাকা বন্ধ মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে দাবি তৃণমূলের।

১৬ সেপ্টেম্বর মল্লারপুর থানার দক্ষিণ গ্রাম পঞ্চায়েতের টাওসিয়া গ্রামে আক্রান্ত হন পঞ্চায়েতের অস্থায়ী কর্মী অভিজিৎ গড়াই। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পরদিন সকালে ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকের মন্ডল সভাপতি সুশান্ত দে’কে গ্রেপ্তার করে মল্লারপুর থানার পুলিশ। ওই দিন তাকে রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছিল। বিচারক ৩ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। রবিবার তাঁকে মাড়গ্রাম থানার হাঁসন গ্রামের একটি ভাঙচুরের মামলায় ফের পুলিশ আদালতে তুলে হেপাজতে নেয়।

- Advertisement -

ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার মল্লারপুর শহরে ২৪ ঘণ্টা বন্ধের ডাক দেয় বিজেপি। এদিন সকাল থেকেই শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। সকালের দিকে ছোটখাটো কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও, বেলা বাড়তেই সেগুলিও বন্ধ হয়ে যায়। তবে ব্যাঙ্ক, পঞ্চায়েত কার্যালয় খোলা ছিল। বেলার দিকে বিজেপির পক্ষ থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। যার নেতৃত্ব দেন দলের জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মন্ডল, প্রাক্তন সভাপতি তথা রাজ্য কমিটির সদস্য অর্জুন সাহা, জেলা সাধারণ সম্পাদক অতনু চট্টোপাধ্যায়, জেলা সদস্য মানস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। মিছিল শহর পরিক্রমা করে মল্লারপুর বাহিনা মোড়ে শেষ হয়। সেখানে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বক্তব্য রাখেন সমস্ত নেতৃত্ব।

বীরভূম জেলা পরিষদের কো-মেন্টর ধীরেন্দ্র মোহন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একজন গুন্ডাকে ছাড়াতে বন্ধ ডেকেছিল বিজেপি। মানুষ তাঁদের ডাকা বন্ধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। একজন সরকারি কর্মীকে মারধর করার অভিযোগে, পুলিশ সুশান্ত দে’কে গ্রেপ্তার করেছে। আদালত বিচার করবে। কিন্তু, আদালতের প্রতি আস্থা নেই বিজেপির।

অপরদিকে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক অতনুবাবু বলেন, এখন পুলিশের অবস্থা বাড়ির পোষা কুকুরের মতো। সরকারি পোশাক পড়ে থাকেন ঠিকই কিন্তু, সকাল বেলা প্রভু যা যা নির্দেশ দেন তাঁর থেকে কিছু বেশি পালন করেন। ওদের প্রভু এখন শাসক দলের নেতারা। তিনি আরও বলেন, সুশান্তকে মাড়গ্রাম থানার হাঁসনের একটি নতুন মামলা দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই গ্রামের রাস্তাই চেনে না সুশান্ত। আমার বিরুদ্ধে ক্লাবে বিস্ফোরণের মামলা দেওয়া হয়েছিল। অথচ ওই ক্লাবে কোনও দিন আমি যাইনি। এভাবেই মিথ্যা মামলা দিয়ে বিজেপি নেতাদের আটকে রাখার পন্থা নিয়েছে পুলিশ ও রাজ্যের শাসক দল। তার বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই।